শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২

মানুষ কোনটা বিশ্বাস করবে?

মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২
মানুষ কোনটা বিশ্বাস করবে?

আবদুন নূর তুষার : 

বাংলাদেশ ব্যাংক; ব্যাংক কোম্পানী আইনের ৪৫ ধারাবলে পত্রযোগে একটি আদেশ দিয়েছে। স্বাক্ষর করেছেন ফরাজী সাহেব।

এই পত্রবলে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমন সীমিত করার নামে প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

এখানে বলা হয়েছে কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবেলার জন্য এই পত্র দেয়া হয়েছে।

যুদ্ধজনিত কারনে বৈশ্বিক অস্থিরতায় বৈদেশিক মুদ্রা খরচ সীমিত করা হচ্ছে।

পূণরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সভাসমিতি/ট্রেনিং/সেমিনার এর জন্য বিদেশযাত্রা বন্ধতো থাকবেই। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমনও বন্ধ থাকবে।

এই আদেশ সেই ৪৫ ধারায়।

৪৫ ধারায়

ক) জনস্বার্থে আদেশ দেয়া যায়।

(খ) মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক-নীতির উন্নতি বিধানের জন্য, বা

(গ) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী বা ব্যাংক-কোম্পানীর স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার জন্য; বা

(ঘ) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য,

জনস্বার্থে আদেশ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ খরচ বন্ধ করা যায়। কিন্তু কারো ব্যাক্তিগত অর্থ খরচকে বন্ধ করা যায় না। ব্যাংকের নিজস্ব টাকা খরচ সীমিত করার আদেশ দেয়া ঠিক আছে কিন্তু ব্যাংকার পরিশ্রম করে উপার্জন করা বেতনের টাকা কোথায় খরচ করবে সেটা বলার অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংকের নাই। 

মুদ্রানীতি ও ব্যাংকনীতি, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নতি এবং আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষার সাথে কোন ব্যাংকারের ব্যক্তিগত বিদেশযাত্রার কোন সম্পর্ক নাই। বরং ট্রেনিং বন্ধ করা মানে ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন রহিত করা।

ব্যাংকার বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং যদি সকল নাগরিকের বিদেশ ভ্রমন বন্ধ না করা হয় তবে নিজের কষ্টের টাকায় খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে ব্যাংকার এর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার এক্তিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের আছে কি?



এই পত্রে চিকিৎসার জন্য কোন ছাড়ও দেয়া নাই।

যদি ব্যক্তিগত খরচ নিষিদ্ধ করার অধিকার থাকে তবে বিদেশ ভ্রমন কেন? বাংলাদেশ ব্যাংক বলে দিক ব্যাংকাররা বিদেশী ঘড়ি, পারফিউম, অন্তর্বাস, জুতা, চকলেট, আফটার শেভ ও ব্লেডও ব্যবহার করতে পারবে না। 

এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে পিকে হালদার গংকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশী টাকা চুরি করতে দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর  ব্যবস্থা নেয় নাই।

পিকে হালদার কোন পথে ভারতে টাকা নিলো? 

অথচ নিজের খরচে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমন আটকে দিয়ে বাহাদুরী দেখাচ্ছে।

সরকারী বিধান মেনে, নিজের আয়ের অর্থ দিয়ে কেউ বিদেশে ভ্রমন করলেও সে বছরে নির্ধারিত কোটার বেশি খরচ করতে পারে না।

সকল কর্মকর্তা প্রতিবছর বিদেশেও যায় না।

মনভোলানো, চোখে ধুলো দেয়া এসব ব্যবস্থা নিয়ে মূলত: যা হচ্ছে তা হলো জনমনে আরো বেশি আতংক ছড়ানো হচ্ছে

একদিকে বলা হচ্ছে দেশে ডলারের যথেষ্ট মজুদ আছে, শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া হবার কোন সম্ভাবনা নাই।

বলা হচ্ছে, কোভিডেও আমাদের জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে।

বলা হচ্ছে, পৃথিবীতে ডলারের দাম সবচেয়ে কম বেড়েছে বাংলাদেশে।

অন্যদিকে, নিজের খরচে ভ্রমন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর কথা বলে।

মানুষ কোনটা বিশ্বাস করবে?

মানুষ আরো আতংকিত হচ্ছে । কারণ পর্যাপ্ত ডলার থাকলে এসব আদেশের যৌক্তিকতা কি?

প্রাতিষ্ঠানিক খরচ কমাতে বলেন। নিজেদের খরচ কমান। সব ঠিক আছে।

ব্যাক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করলে- সব নাগরিকের নিজখরচে বিদেশ ভ্রমন বন্ধ করে দেন।

শুধু ব্যাংকার কেন? নিজেরাই কেন আতংক ছড়াচ্ছেন।

লেখক : চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মী। 



Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল