মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা:
গেল প্রায় সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় সাতক্ষীরার মানুষের জীবনযাত্রা একরকম স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠানামা করছে। ভোর রাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়চ্ছে রাস্তাঘাট। বেলার বাড়ার সাথে সাথে হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ কোন কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে-খাওয়া, দিনমজুর ও নিম্ন ও মধ্যআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এর আগে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও ওঠানামা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মাঝে মধ্যে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তার আলো ছিল একরকম নিষ্প্রভ।
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার ইঞ্জিনভ্যান চালক নওশের আলী বলেন, 'দিন যতো যাচ্ছে ঠান্ডা ততই বাড়ছে। মঙ্গলবার সকালে ভ্যান নিয়া বের হলেও অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে যাত্রী পাই নাই। সকালে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া যায়। আজকে মাত্র দুইজন ছাত্রী পাইছি। ঠান্ডার কারণে গত বেশ কয়েকদিন ধরে আয় ইনকাম তেমন হচ্ছে না। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, তীব্র্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তীব্র শীতে সর্দি-কাশি, নিমোনিয়া ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ইতিমধ্যে শতাধিক রোগী আউট ও ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামছুর রহমান
তিনি বলেন,বলেন, তীব্র শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাদের গরম কাপড়, হাতমোজা পরিয়ে রাখতে হবে এবং ভোরে বাইরে বের করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাসি খাবার না খাওয়ানো ও বিশুদ্ধ পানি পান করানো জরুরি। ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রæত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।
অপরদিকে মাদ্রাসার এতিম ও ছিন্নমূলদের পাশে প্রশাসন শীতের হাহাকারের মাঝে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে রাতে অন্ধকার চিরে হাজির হচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার রাতে শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কম্বল নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুজ্জাহান কনক।
তীব্র শীতের রাতে খানপুর বাসস্ট্যান্ডের ছিন্নমূল মানুষ এবং ধুমঘাট জামিয়া ইসলামিয়া রশিদীয়া হুসাইনাবাদ মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও বলেন, শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা চরম কষ্টে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি.এম মনিরুল ইসলাম মিনি বলেন, জেলায় শীতের তীব্রতা ক্রমশঃ বাড়ছে। এই শীতে সব চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারি ভাকে একসাথে এতো মানুষকে সহযোগীতা করা সম্ভব হয় না। অসহায় মানুষের পাশে ব্যক্তিগত ভাবে দাঁড়ানো যায়।
তিনি শীতের এই তীব্রতায় সাতক্ষীরার শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদার করতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ের পাশপাশি জনপ্রতিনিধিদের অবিলম্বে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এমআই