নাটোর প্রতিনিধি:
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতারসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মো. শহিদুল ইসলামের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল গুরুদাসপুর থানাধীন চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় টহল ডিউটিতে থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে—চাঁচকৈড় কাচারীপাড়া এলাকায় একটি প্রতারক চক্র প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে ফাঁসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল চাঁচকৈড় কাচারীপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়। অপররা কৌশলে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন, গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. প্রজা শাহের পুত্র মো. সদ্দাম হোসেন (৩০)। মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে মো. মেহেদী সুজা (৪৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির দেহ তল্লাশি করে একটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড এবং প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫ পরীক্ষার একটি প্রবেশপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আদান–প্রদানের একাধিক আলামত পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্রগুলো মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত অবস্থায় ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেন, পলাতক মেহেদী সুজার সহযোগিতায় তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি ও বিতরণ করতেন। এ কাজে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির মোবাইল ফোনে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত একাধিক কথোপকথন, ডিজিটাল আলামত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছে।
এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারসহ পুরো চক্র শনাক্তে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এমআই