মোঃ শাকিল, কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি :
দেশের শতাব্দী প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও এর একমাত্র ছাত্রাবাস 'ঐতিহ্য' রক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
১৮৭৪ সালের ১৬ মার্চ মহসিনিয়া মাদ্রাসা নামে গোড়াপত্তন হয়েছিল দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম বিদ্যাপীঠ কবি নজরুল সরকারি কলেজের।১৮৮০ সালে প্রথম অধ্যক্ষ মওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দীর তত্ত্বাবধানে মুসলিম স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী মাদ্রাসা ভবন তৈরি করা হয়। এ ভবনের নকশা করেছিলেন মেজর ম্যান। প্রকৌশলী ভিভিয়ান ও স্কট সেই নকশা অনুযায়ী নতুন ভবন তৈরি করেন। বর্তমানে জরাজীর্ণ মূল ভবনটির বয়স ১৪৬ বছর পার হলেও ঐতিহ্য রক্ষার্থে তা ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করে ক্লাসরুমের সংকট নিরসনের কোন সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেনি প্রশাসন।দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে।
একই চিত্র, শতবছরের পুরোনো শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাসের। একুশ (২১) হাজার শিক্ষার্থীদের বিপরীতে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদের মাথাগোঁজার একমাত্র ঠাঁই এই ছাত্রাবাস। ছাত্রাবাসটি থাকার অনুপযোগী হলেও আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন ছাত্রাবাসে।অপরিষ্কার ডাইনিং, অপরিছন্ন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।।দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দিনের বেলায় ছাত্রাবাসের ভেতরে ভুতুড়ে পরিবেশ। এরপরও এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয় শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে বাংলা বিভাগের (২১-২২) সেশনের মোঃ সিফাত উল্লাহ বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস ও ক্লাস ভবনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও উদ্বেগজনক।
গনিত বিভাগের(২১-২২) সেশনের মোঃ সাকি বলেন, ছাত্রাবাসে পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা, ভাঙাচোরা অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ও স্বাভাবিক জীবনে মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ছাত্রাবাস ও ক্লাস ভবনের সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
এই বিষয়ে একাধিকবার অধ্যক্ষকে ফোন করা সত্ত্বেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এমআই