আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকে পড়ায় স্বর্ণের দাম এই রেকর্ড গড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৯ দশমিক ৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ০২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৯ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময়ে গড়ে স্বর্ণের দাম দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বাড়তে থাকা টানাপোড়েন চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই স্বর্ণের বাজারে নতুন গতি এসেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রয়টার্স জানায়, শনিবার আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচনার দ্বিতীয় দিন কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যদিও আগামী সপ্তাহান্তে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যেই রাশিয়ার রাতভর বিমান হামলায় তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনে ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগহীন হয়ে পড়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্যনীতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনুসরণ করলে তিনি কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সতর্ক করে বলেন, এমন চুক্তি কানাডাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি শিথিল হওয়ার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি চাহিদা এবং এক্সচেঞ্জ–ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড বিনিয়োগ। বিশেষ করে ডিসেম্বরে চীনের স্বর্ণ কেনার ধারা টানা ১৪ মাস ধরে অব্যাহত ছিল।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০৪ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৬২ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে। তবে স্পট প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ১৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
এমআই