বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বুটেক্স:
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে ক্যাম্পাসে স্থাপিত হয়েছে ‘ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী শহীদ স্তম্ভ’। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মারকটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সম্মুখে স্থাপিত এই স্তম্ভটি এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক অবিনাশী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই স্মারক স্তম্ভটি নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নানাবিধ জটিলতার কারণে তা কয়েক দফা বাধাগ্রস্ত হয়। গত ২১ ডিসেম্বর এটি স্থাপনের প্রাথমিক সূচি নির্ধারিত থাকলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ গ্রহণ করেন। তারা ক্যাম্পাসে ব্যাপকভিত্তিক ‘গণস্বাক্ষর কর্মসূচি’ পরিচালনা করেন, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরঙ্কুশ সমর্থন প্রতিফলিত হয়।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে, গত ২৭ জানুয়ারি দুপুর ২টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমের বিনিময়ে এই স্তম্ভটি স্থাপন সম্পন্ন করেন। শিক্ষার্থীদের এই আপসহীন অবস্থান ও শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলেও ইতিবাচকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
স্তম্ভটি স্থাপনের নেপথ্যে থাকা ‘জুলাই কালচারাল সেন্টার’-এর প্রতিনিধিরা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার সচেতন করা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত রাখা। সংগঠনের সদস্য ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা নিয়ে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ নীরব থাকবে না।”একইসাথে তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে সকল শহীদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বুটেক্স শিক্ষার্থীদের এই অকুতোভয় উদ্যোগটি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শহীদ আবরার ফাহাদের ভ্রাতা আবরার ফাইয়াজসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবনির্মিত এই শহীদ স্তম্ভের ছবি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই উদ্যোগকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এমআই