সাইফ রসুল খান, খুবি প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের আকাঙ্ক্ষা ও আশা থাকে, যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস জীবনকে নির্ধারণ করে। এরই মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মিনহাজ মুরসালিন( শিক্ষার্থী, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়) এর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন বিশেষ?
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট, রাজনৈতিক গোলযোগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মিনহাজ বলেন, "এখানে সেশনজট নেই, রাজনৈতিক গোলযোগও নেই, এবং প্রশাসনিক কাঠামো অনেক সুন্দর, যা পড়াশোনার জন্য উপযোগী।" তিনি আরও যোগ করেন, "এখানে আসার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, তবে প্রধানত এখানকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং শিক্ষার মানই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা এবং পরিবেশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে মিনহাজ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো হলেও, ছাত্রদের জন্য হলের সুবিধা কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। ছেলেদের জন্য মাত্র তিনটি হল রয়েছে, যার কারণে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া বাইরের এলাকায় যেমন ইসলামনগর রোডে বাসা ভাড়া নিতে হয় নতুন শিক্ষার্থীদের, যা একটা নেতিবাচক দিক।" তিনি আরও বলেন, "খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গল্লামারী এলাকায় যানজট একটি বড় সমস্যা, যা সমাধান করা সম্ভব। তবে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ভালো এবং সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্কও অনেক ভালো।"
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় পড়াশোনার যাত্রা
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে পড়াশোনার আগ্রহের বিষয়ে মিনহাজ জানান, "প্রথমে আমার ইচ্ছা ছিল স্থাপত্যে পড়াশোনা করার, তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে পড়াশোনার জন্য আকৃষ্ট হয়েছি।" তিনি বলেন, "এটি একটি বিভাগীয় শহর এবং স্থাপত্যের সঙ্গে এই বিষয়ে সম্পর্ক রয়েছে, তাই আমি এই বিষয়টি বেছে নিয়েছি।"
শিক্ষার মান এবং বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্ক
শিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মিনহাজ বলেন, "আমাদের ডিসিপ্লিনে একাডেমিক দিক থেকে ভালো ভূমিকা রাখা হয়। অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছেন, এবং গবেষণাগার ও স্টুডিওর সুবিধা বেশ ভালো।" তবে প্রথম বর্ষে কিছু অপ্রধান কোর্স থাকায়, তিনি মনে করেন যে তা পেশাগত জীবনে তা কাজে আসার সম্ভাবনা কম।
ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন
মিনহাজ নিশ্চিত করেন যে, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনার শিক্ষাই ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। তিনি বলেন "আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ, ড্রোন চালানো শেখানো, স্যাটেলাইট ভিউ নেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলি ভবিষ্যতে কাজে আসবে আশা করাই যায়" ।
পড়াশোনা ও ক্লাবের কার্যক্রম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বাইরের কার্যক্রমের ব্যাপারে মিনহাজ বলেন, "এখানে অনেক ক্লাব রয়েছে, যেমন সাংস্কৃতিক ক্লাব ভৈরবী, ক্যারিয়ার ক্লাব, রোট্রাক্ট ক্লাব, এবং খেলাধুলার ক্লাব। এসব ক্লাব আমাদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে, সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করতে সাহায্য করে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রয়োজন
বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু পরিবর্তন দেখতে চাওয়ার বিষয়ে মিনহাজ জানান, "১০৬ একরের এক উজ্জল নক্ষত্র আমাদের খুবি। পরিবর্তন বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়োজন, কারণ প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে ভোগান্তিতে থাকে। এছাড়া কিছু ডিসিপ্লিনের ক্লাসরুম ও গবেষণাগার নেই, এ বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার। ক্যাম্পাসে কুকুরের সংখ্যা অনেক বেশি, যা রাতের সময় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করে। যদিও কুকুরগুলোকে ভেক্সিন ও বেল্ট দেয়া হচ্ছে।"
শেষ কথা
মিনহাজ মুরসালিনের সাক্ষাৎকার থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ যেমন ভালো, তেমনি কিছু সুযোগ-সুবিধা উন্নতির প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তব জীবনে প্রাসঙ্গিক দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবার মান বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার দিকে আরও মনোযোগ দেয়া উচিত।
সময় জার্নাল/একে