নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি থেকে জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
মুদ্রানীতি বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি থেকে সরে এসে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ। এ অবস্থায় নীতি সুদহার আগেভাগে কমিয়ে আনা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে সুদহারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, সেটিই নীতি সুদহার। এই হার অপরিবর্তিত রাখার মূল কারণ হলো, আগের মুদ্রানীতিতে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনো অর্জিত হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গতকাল প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে; যা এর আগে ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ, নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো মাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মূলত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম ঋণ নিচ্ছেন।
এমআই