নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে দাপুটে জয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই আসনের মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও তিনি পরাজিত হননি; প্রতিটি কেন্দ্রেই তার প্রতীকের পক্ষে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মানসুর আহম্মেদ সাকী হাতপাখা প্রতীকে ১২ হাজার ৫০, জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৮০, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. ফয়জুন্নুর হাতি প্রতীকে ৪৭৪, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার আনারস প্রতীকে ২৬৫, গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাফ হোসেন ট্রাক প্রতীকে ৩০৬ এবং নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক কেটলি প্রতীকে ১৩৮ ভোট পেয়েছেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৩ এবং ‘না’ ভোট ৬২ হাজার ৮৭৪।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৬১ জন এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৫৫টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ কঠোর নজরদারি ছিল।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন বলেন, “এটি শুধু একটি নির্বাচনি জয় নয়, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। নেতাকর্মীদের ঐক্য, ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফলেই এই ঐতিহাসিক ফলাফল এসেছে।”
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সদস্য আলমগীর সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। এই বিজয় গণমানুষের বিজয় এবং আমরা এটিকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখছি।”
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি জনগণের বিজয়। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণবাসীর ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবো। উন্নয়ন, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
এমআই