মোঃ আবদুল্যাহ চৌধুরী, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট-সোনাপুর সড়কে বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকায় তেলবাহী লরি চাপায় শফিকুর রহমান (৬২) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত শফিকের দুই ছেলে'সহ আহত হয়েছেন আরও ৩জন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত শফিকুর রহমান কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মমিনুল হকের ছেলে।
আহতরা হচ্ছেন, শফিকুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৩), সাইদুর রহমান (২০) ও ব্যবসায়ী সোহাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকার নিজেদের দোকানে আসেন শফিকুর রহমান এবং তার দুই ছেলে। বেলা ১১ টার দিকে দুই ছেলেকে কবিরহাট বাজারে পাঠানো নিয়ে দোকানের সামনে বসে কথা বলতেছিলেন। এ সময় সোনাপুর থেকে কবিরহাট এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যমুনা নামের তেলবাহী একটি লরি দোকানের সামনে থাকা শফিকুর রহমান ও মোটরসাইকেলে থাকা তার দুই ছেলেকে চাপা দিয়ে পাশ্ববর্তী সোহাগের দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলের শফিকুর রহমান মারা যান। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকের দুই ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং প্রায় দুই ঘন্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম ও কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এ মোড়ে স্পিড ব্রেকার বা ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা হবে এমন আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় লোকজন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, এই সড়কটি উন্নতিকরণের পর সড়ক বিভাগের অবহেলার কারণে এখানে কোন স্প্রিড ব্রেকার দেওয়া হয়নি। অথচ এই এলাকার আশপাশে চার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে এবং প্রতিদিন তারা এই সড়ক দিয়ে পারাপার হতে হয়।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তেলবাহী গাড়িটিসহ চালক আটক রয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমআই