আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক ও কাঁধে বহনযোগ্য কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের জন্য গোপনে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (৫৮৯ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি অস্ত্রচুক্তি সই করেছে ইরান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে মস্কোয় স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় আগামী তিন বছরে ইরানকে ৫০০টি ম্যান-পোর্টেবল 'ভারবা' লঞ্চ ইউনিট এবং ২ হাজার ৫০০টি '৯এম৩৩৬' ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে রাশিয়া। ফাঁস হওয়া রুশ নথি এবং চুক্তি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পত্রিকাটি।
তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে তিন ধাপে এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট এবং মস্কোয় অবস্থানরত ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস (এমওডিএএফএল)-এর প্রতিনিধির মধ্যে এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানায়।
এর আগে, গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে সে সময়কার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়, বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, বরং তা কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন, যুদ্ধের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে তেহরান এবং তাদের সক্ষমতা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে, যদিও এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। চলতি ফেব্রুয়ারিতে ওমান উপসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি করভেট জাহাজ ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালায় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমআই