শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

তেল বাজারে অস্থিরতা : যে ‘শর্তে’ রুশ তেল কেনার অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬
তেল বাজারে অস্থিরতা : যে ‘শর্তে’ রুশ তেল কেনার অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাগরে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের বিশেষ ‘উইন্ডো’ বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। তবে এই নমনীয়তা নিঃশর্ত নয়; বরং নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে জাহাজীকরণ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করার মতো কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েই বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার ঘোষণা দেন, সমুদ্রের মাঝপথে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের বিশেষ লাইসেন্স বা অনুমতি প্রদান করা হলো। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন বেসেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার সরকার বড় ধরনের কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না।’

এর একদিন আগেই মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল যে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ (কৌশলগত মজুত) থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। ৩২ জাতির আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বিশ্ববাজারে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত তারই অংশ।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লাইসেন্সের তথ্যানুযায়ী, গত ১২ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ এবং বিক্রির এই অনুমতি আগামী ১১ এপ্রিল ওয়াশিংটন সময় মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এর আগে ৫ মার্চ, ভারতের জন্য একইভাবে ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ফলে সাগরে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার সুযোগ পায় নয়াদিল্লি।

জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে মার্কিন ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন’ (DFC)-কে পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি তিনি জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিতে পারে মার্কিন নৌবাহিনী।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর বিপরীতে তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের এই স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে তারা পারস্য উপসাগর থেকে সব ধরনের তেলের চালান বন্ধ করে দেবে।

সূত্র : দি ইকোনমিক টাইমস

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল