মোঃ এমদাদ উল্যাহ, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের শিক্ষার তৃষ্ণা নিবারণের লক্ষ্যে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় “চৌদ্দগ্রাম এইচ. জে. সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল”। যা আজ কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এক সম্ভাবনার নাম, এক গর্বের বাতিঘর।
শুরুতে স্কুলটি কিছু সীমিত অবকাঠামো ও শিক্ষক-সংকটে পথচলা শুরু করলেও অল্প সময়েই এটি চৌদ্দগ্রামের শিক্ষার্থীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে পাঠদান করা হয়ে থাকে। আশেপাশের জায়গাসহ স্কুলটি বর্তমানে প্রায় ৩ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রাকৃতিক পরিবেশ এটিকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আলাদা করেছে।
বিদ্যায়তনিক পরিসরে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। স্কুলের ক্যাম্পাসটির উত্তরে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ ও উপজেলা পরিষদ কার্যালয় এবং উত্তর-পূর্বে পৌরসভা কার্যালয়, দক্ষিণে সার্কেল অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পূর্বে (উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র) দ্বারা পরিবেষ্টিত। স্কুলটি শ্যামল-সুন্দর পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই স্কুলটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকবৃন্দ, নিয়মিত পাঠদান, নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ; সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল একাডেমিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে স্কুলটি।
এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় না; তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রমেও উদ্বুদ্ধ করা হয়। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি; এই সকল কর্মকাণ্ডে কলেজটি ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও সৃজনশীলতা গড়ে ওঠে।
অবকাঠামোগত দিক দিয়েও চৌদ্দগ্রাম এইচ. জে. সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল অনেকদূর এগিয়েছে। স্কুলের নিজস্ব ক্যাম্পাসে রয়েছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ।
এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে থাকে। অনেকেই পরবর্তীতে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংবাদিকতা, আইন ও বিভিন্ন পেশায় সুনাম অর্জন করছে।
স্কুলটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকে এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন, যা এই কলেজের জন্য এক গৌরবের বিষয়। প্রাক্তন ও বর্তমানদের সকল ব্যাচের যৌথ উদ্যোগে ১৮ মার্চ স্কুলটির মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ইফতার মাহফিল। উক্ত মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপক সেনগুপ্ত। অনুষ্ঠানটি পাইলটিয়ানদের মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে।
এমআই