আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইউক্রেনের একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযোগ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সহযোগিতা করছিল।
রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর বলেছে, ‘দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন কমান্ডার ও সৈন্যদের গোপন আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দুবাইয়ে রাখা ইউক্রেনের একটি ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থার ডিপোও টার্গেট করা হয়। হামলায় ডিপোটি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
ইরানি সেনাবাহিনী এমন সময় এই হামলা দাবি করেছ- যখন আজ শনিবারই এক অঘোষিত সফরে আমিরাতে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি জানান, দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে। , তারা দুবাইতে একটি ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ডিপো ধ্বংস করেছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেওরহি তিখি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি মিথ্যা। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য খণ্ডন করছি। ইরানি শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই এ ধরনের অপতথ্য প্রচারণা চালিয়ে থাকে।’
প্রসঙ্গত, আর্থিক অনুদান এবং উন্নত প্রযুক্তির বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করছে ইউক্রেন। কারণ ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানি শাহেদ ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করছে। ইউক্রেন তাদের শেখাতে চায় কীভাবে অনেক কম খরচে এবং কার্যকরভাবে ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তাদের সল্পমূল্যের ইন্টারসেপ্টর ও জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করবে কিয়েভ। দেশটি ইতোমধ্যেই সৌদি আরব, কাতার, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে তাদের ড্রোন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এমনকি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও তারা সহায়তা প্রদান করছে।
এমআই