এম. পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এফ এম শামীম আহসানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ৪০ জন চিংড়ি ঘের মালিকেরা। তারা মানববন্ধন থেকে বিএনপি নেতার বহিস্কারের দাবিও তুলেছেন।
রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নে হাওলাদার পাড়া এলাকায় এ মানববন্ধনে অংশ নেয় স্থানীয় জমির মালিক শতাধিক নারী পুরুষেরা। মানববন্ধন থেকে ৪০ জন জমির মালিকেরা অভিযোগ করে বলেন, হাওলাদার পাড়ায় ১৭০ বিঘা মৎস্য ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত পেশীশক্তি ব্যবহার করে জমির মালিকদের বঞ্চিত করে জোরপূর্বক মৎস্য ঘের করে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও নতুন করে বিএনপি নেতা এফ এম শামীম আহসান, কতিপয় জমির মালিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক রাতের আধাঁরে হাড়ির টাকা দিয়ে জমির মালিকদের বাধ্য করে। তার অবাধ্য হলে মামলা দিয়ে হয়রানি, হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। প্রকৃত জমির মালিকেরা নিজেদের জমিতে নিজেরাই ফসল উৎপাদন ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়। তারা বহিরাগত দলীয় নেতাদের হাত থেকে বাচঁতে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে এ সময় বক্তৃতা করেন স্থানীয় জমির মালিক সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, রাজিব হাওলাদার, মো. মমিনুল ইসলাম, নাছিমা খাতুন, মরিয়ম বেগম, সাবিনা আক্তার, মর্জিনা বেগম, মেহেরুন নেছাসহ একাধিকরা। এদিকে এ মৎস্য ঘেরটি দখলের পায়তারার অভিযোগ এনে ৪০ জন জমির মালিকের পক্ষে সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে বিএনপি নেতা এফ এম শামীম আহসানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এফ এম শামীম আহসান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, ২০০৬ সালে ১৫০ বিঘার এ মৎস্য ঘেরটি জমির মালিকেরা তার নামে রেজিষ্ট্রি করে মালিকানা দিয়েছেন। পরবর্তীতে ২ বছর ঘের করার পরে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে তার ঘেরটি দখল করে নেয়। পরিকল্পিতভাবে তার দলীয় ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তাদের ওখানে কোন জমি নেই। স্থানীয়দের হাড়ির টাকা দিয়ে ৬০ বিঘার মালিক তিনি।
এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুর রহমান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে হবে। তবে, মৎস্য ঘেরে মারপিট আইনশৃংখলা ভঙ্গের আশংকার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
একে