আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে ইরানের সব বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ করতে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অবরোধ কীভাবে কার্যকর করবে—এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কৌশলে জাহাজ থামানো এবং দূর থেকে নজরদারির মাধ্যমে এই ব্লকেড বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
সমুদ্রবিষয়ক ইতিহাসবিদ সালভাতোরে মেরকোগ্লিয়ানো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে তারা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাল্লার বাইরে থেকে এই কাজ করবে। তিনি বলেন, এই অবরোধে সব জাহাজ অন্তর্ভুক্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকেডে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ এবং মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ ছাড় পাবে।
ইতিহাসবিদ মেরকোগ্লিয়ানো মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনী শক্তিশালী করেছে। তাদের কাছে অবরোধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদা আলাদা অবরোধ চালু করতে পারে। এতে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই অভিযানে ১৫টির বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং আরব সাগরের কিছু এলাকায় নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ইরানি জাহাজ হামলা চালালে তা ধ্বংস করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে কঠোর পদ্ধতিতে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর আগে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বন্দর হুমকির মুখে পড়লে আশপাশের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজের দিকে সামরিক জাহাজ এগোলে সেটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।
৪০ দিন যুদ্ধের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। এর পরই এই অবরোধের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একে