মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রামুতে আদিবাসী কিশোরী হত্যা, পেছনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ!

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
রামুতে আদিবাসী কিশোরী হত্যা, পেছনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ!

খালেদ হোসেন টাপু , রামু প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের রামুতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ১৬ বছরের এক চাকমা সম্প্রদায়ের আদিবাসী কিশোরীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য তার মৃতদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরীর নাম মায়া চাকমা (১৬)। উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মায়া চাকমা আনুমানিক বছরখানেক ধরে কক্সবাজার জেলার রামুর পশ্চিম পাড়া মেরোরুওয়া গ্রামে সাধন বড়ুয়া নামে এক বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করে আসছিল। ঘটনার মাস খানেক আগে মায়ার সাথে তার বাবার ফোনে যোগাযোগ হয়, মায়া বেশ হাসি খুশিতেই ছিল, সবকিছু ছিল ঠিকঠাক। একসময় তার বাবা ক্যউছিং চাকমা তার মেয়েকে বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে মায়া বলেন, “তার বাড়ির মালিক অথাৎ সাধন বড়ুয়া পহেলা বৈশাখের আগে নিজে তাকে বাড়িতে দিয়ে আসবে।” এই বলে আরও কয়েকদিন থাকতে বাবাকে অনুরোধ করলে তিনি থাকতে দিতে রাজি হন।

কিন্তু রোজকার দিনের মতো ১২ এপ্রিল, সকালে মায়ার বাবা তার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফোন দিলে সেখান থেকে কেউ সাড়া দেননি অথাৎ সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে কেউ ফোন রিসিভ করেননি। মায়ার বাবা মনে করতে থাকেন, তারা হয়তো কাজে ব্যস্ত, তাই তিনি আর বারবার কাউকে ফোন করেননি এবং পরে তার মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণে চার্জ না থাকায় ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল অনুমানিক ৪/৫ ঘটিকায় মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে ফোন করে বলা হয়, “তোমরা তাড়াতাড়ি এখানে এসো।” এই বলে কল কেটে দেয়া হয়।

তারপর মায়ার পরিবারের লোকজন ফোন পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক রামুর উদ্দেশে রওনা দিয়ে রাত ৮টার দিকে তারা রামুর সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে পৌঁছালে দেখতে পান তাদের মেয়ের মৃতদেহ সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। সাধন বড়ুয়াদের থেকে এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে বলা হয়, মায়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজে নিজেই আত্মহনন করেছে।তবে মায়ার মা-বাবা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে পারেননি এবং মায়ার আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণও তারা খুঁজে পাননি। তাদের সকলের ধারণা, মায়া আত্মহত্যা করেনি, বরঞ্চ তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এছাড়া মায়ার গলায় ফাঁসের কোনো আলামত তারা পাইনি বলে জানান।

জানা গেছে, সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। গত কয়েকদিন আগে তার এক ছেলে ফ্রান্স থেকে বাড়িতে এসেছে। সেই ছেলেই মায়াকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। অন্যদিকে সাধন বড়ুয়া ক্যউছিং চাকমাকে তার অর্থনৈতিক দৈন্যদশা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তোমরা গরীব মানুষ, মামলা করলে টাকা ছাড়া পুলিশ তোমাদের মামলা গ্রহণ করবে না। তুমি মেয়ের ঘটনা নিয়ে মামলা করো না। তার চেয়ে তোমার মেয়ের সাপ্তাহিক ক্রিয়ার সমস্ত খরচ আমি বহন করব। মামলা করার চিন্তা বাদ দাও।”

সাধন বড়ুয়ার মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর ক্যউছিং চাকমা একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছেন যে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তারা মায়ার মৃত্যুর সুস্থ তদন্ত করে অতিশীঘ্রই খুনীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

রামু থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ থাকা দরজা খুলে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করে মৃতদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে হত্যার প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল