শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নাকি মেধা?

শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নাকি মেধা?

আরমীন আমীন ঐশী:

একসময় মানুষের মস্তিষ্কই ছিল সব কিছুর কেন্দ্র সেটা হোক ভাবার, বোঝার বা বিশ্লেষণের। মেধা ছিল মানুষের অহংকার, কিন্তু বর্তমান সময়ে সে মেধার প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে আরেকটি মেধাবান–আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই)। মানুষের তৈরি এই প্রযুক্তি এখন মানুষের মতো ভাবতে পারে,শিখতে,লিখতে এমনকি আঁকতেও পারে।আগে মানুষ নিজে কোনো কিছু ভাবলে বা কোনো কাজ করলে গর্ব করে বলতে পারতো ভাবনাটা নিজে ভেবেছে  বা কাজটা নিজেই করেছে। কিন্তু আজকে আমরা অনেক সময় বলি এআই  দিয়ে করেছি। এআই আমাদের বাঁচাচ্ছে ঠিকই কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের ভাবার ক্ষমতাকেও হারিয়ে ফেলছি।কেননা,এখন কেউ যদি আমাদের কাছে কোনো কিছুর অর্থ জিজ্ঞাসা করে আমরা সেটা নিজেরা ভাবতে চাই না,দ্বারস্থ হই এআই এর কাছে।

একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি নির্ভর যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই)একটি বড় বিপ্লবের নাম। বর্তমানে এটি হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের সঙ্গী।শিক্ষা,চিকিৎসা, ব্যবসা প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন সবাই এআই এর উপর নির্ভরশীল। 

এক জরিপে দেখা যায়,২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এআই ব্যাবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১৪ মিলিয়ন  এবং ধারণা করা হয়, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন যা পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বেশি।

কিন্তু আশঙ্কার জায়গা, মানুষ যখন মেধার পরিবর্তে এআই এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন বড় সমস্যা দেখা দেয় এবং বর্তমানে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন নিজের মেধা কাজে লাগাতে চায় না।

উদাহরণস্বরূপ,এখন শিক্ষার্থীরা নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে হোমওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট নিজে তৈরি না করে  এআই কাজে লাগিয়ে তৈরি করে।শুধু তাই নয়, আমাদের নিত্যদিনের অন্যতম সঙ্গী সংবাদপত্র যেখানে জ্ঞান আর্জনের পাশাপাশি  মানুষের জ্ঞানের  পরিচয় মেলে সেখানেও ব্যবহৃত হচ্ছে এআই। সংবাদপত্রে বিভিন্ন কলাম, আর্টিকেল, চিঠি লেখা হয় যেগুলো অনেক শিক্ষার্থীরাও লিখে থাকে। তারা তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা শেয়ার না করে শুধুমাত্র খ্যাতি অর্জনের জন্য এআই এর সাহায্য নিয়ে লেখে যা তাদের নির্ভরশীলতা,চিন্তাশক্তির ঘাটতি ও সৃজনশীলতার অভাবের পরিচয় দেয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই) এর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ শক্তির অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।এআই আমাদের হয়ে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করে, উত্তর লিখে এমনকি গল্প ও কবিতা লিখে দিচ্ছে, এতে আমাদের সময় এবং শ্রম ঠিকই বেঁচে যাচ্ছে কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি বিশ্লেষণ করা বা নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ যন্ত্রকে নিজের চেয়েও বেশি ভরসা করার বেশ কিছু কারণ রয়েছে, আজকের দ্রুতগতির জীবনে মানুষ চায় কম সময়ে, কম কষ্টে,কম খরচে বেশি কিছু করতে।এআই মানুষের কাজকে সহজ করে,অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের জায়গায় কাজ করে তাও নির্ভুলভাবে, এসব কারণেই মানুষ এআই এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।এখন মানুষ আর ধৈর্য ধরে বসে থাকতে চায় না,এআই দিয়ে কাজ চালালে অপেক্ষা কম করতে হয়।

এআই এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে কম জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা থাকলেও কাজ করা যায়।এর মাধ্যমে একদিকে যেমন কম লোক দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়া যায় ঠিক তেমনি মানুষের কষ্টও কমিয়ে দেয়।একঘেয়ে কাজ যেমন: ডাটা এন্ট্রি,রিপোর্ট তৈরি,গ্রাফ অ্যানালাইসিস এসব সহজেই করা যায়  এআই  এর মাধ্যমে। যদি কেউ ভালো ইংরেজি না জানে,তবুও এআই দিয়ে সুন্দর চিঠি বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারছে।এসবের ফলে মানুষ দক্ষতা অর্জনের আগ্রহ হারাচ্ছে। 

এআই যেমন সুবিধা বয়ে এনেছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি করছে যেমন,মেধার অবক্ষয়,কর্মসংস্থান সংকট, সৃজনশীলতা কমে যাওয়া।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু পথ বেছে নিতে হবে, শিক্ষায় চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলার দিকে জোর দিতে হবে,মৌলিক চিন্তা ও বিশ্লেষণমূলক কাজে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা  এআই এর কপি না করে নিজেরা চিন্তা করে। লেখালেখি, শিল্প, আবিষ্কার ও কর্মক্ষেত্রে মানুষের মেধাই থাকতে হবে মূল চালক। সৃজনশীলতায় এআই কে শুধুমাত্র একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করতে শেখাতে হবে এবং সৃজনশীল কাজের মূল্যায়ন বাড়াতে হবে যাতে মানুষ নিজের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে শেখে।এছাড়া নিজস্ব বিশ্লেষণ ও বিচারবুদ্ধিকে জাগ্রত করতে হবে,সীমিত জ্ঞানের অধিকারী না হয়ে জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে হবে।

 আজকের পরিবর্তিত বিশ্বে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও এআই অনেক কাজ দ্রুত এবং সঠিকভাবে করতে পারে তবুও মানুষের মেধার বিকল্প কোন কিছু হতে পারে না। মানুষের মধ্যে রয়েছে চিন্তাভাবনা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার গভীরতা। 

প্রযুক্তিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে কিন্তু সেটা সহায়ক হিসেবে, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়। আর মেধা শুধু তথ্য সংগ্রহের নাম  নয় বরং চিন্তা আর সৃজনশীলতার জন্ম দেওয়া। মেধাকে বসাতে হবে নেতৃত্বের আসনে।কারণ ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা মানুষই দিবে,যন্ত্র নয়।

লেখক: আরমীন আমীন ঐশী 
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল