মুহাঃ জিল্লুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
হামের সংক্রমণ রোধে সাতক্ষীরায় ২৪১৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ শিশুকে হাম- রুবেলার (এমআর) টিকা দিবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত। মোট ১১ দিনব্যাপী চলমান এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ৮দিন কমিউনিটিতে এবং শেষের ৩দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু পাবে এ টিকা। জেলার প্রাক-প্রাথমিক ও এর সমমান শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে এমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হবে শিশুদের। উদ্দিষ্ট জনগোষ্টিকে তাদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দ্বারা ইপিআই অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এমআর (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম এ তথ্য জানান। ডসভিল সার্জন বলেন, হাম ও রুবেলা মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় টিকা দেওয়া। ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দিতে হবে। ক্যাম্পেইনের নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা অন্য কোন কেন্দ্রে শিশু এমআর টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়লে ক্যাম্পইেন চলাকালীন যে কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। অসুস্থ শিশুরা সুস্থ হলে ক্যাম্পেইন চলাকালে যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। উদ্দিষ্ট শিশু পূর্বে হাম বা রুবেলা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালে যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, জেলার ৭টি উপজেলার ৭৭টি ইউনিয়নে অবস্থিত অস্থায়ী এবং স্থায়ী ২৪১৭টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে।
প্রতিটি কেন্দ্রে একজন দক্ষ কর্মীসহ মোট ৩জন থাকবে। কোন ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন শুরুর আগের দিন ওই এলাকায় মাইকিং করা হবে। মোট ১১ দিনের এ ক্যাম্পেইনে যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে, সেজন্য সকলের সহযোগিতার পাশাপাশি মাইকিং ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা চলমান রয়েছে।
ডাঃ আব্দুস সালাম বলেন, গত এক দশকের মধ্যে এইবছরই দেশে হামের সর্বোচ্চ সংক্রামন হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ২০৬ জন। সাতক্ষীরায় কোন হামের রোগী সনাক্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত জেলা থেকে ২০০টি স্যাম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু একটিও পজেটিভ আসেনি।
সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাববুবুর রহমান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা: রাশেদ উদ্দিন মৃধা, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট শেখ আবদুল বাকী, মেডিকেল অফিসার ডাঃ জয়ন্ত সরকার ও ডাঃ ইসমত জাহান সুমনাসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার ২০ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রে এ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে জানান সিভিল সার্জন।
এমআই