আবদুল্লাহ কাদের, মালদ্বীপ প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর চিফ অব মিশন ক্রিস্টিন পারকো মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আঞ্চলিক অভিবাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত, মানবিক ও টেকসই সমাধান নিয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশেষভাবে মালদ্বীপে অবস্থানরত বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় মিস পারকো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আইওএম-এর চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও ফিলিপাইনের হাইকমিশনসমূহের সমন্বয়ে একটি মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়, যা অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে সহায়ক হবে।
এছাড়া, মালদ্বীপে মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার রিসোর্স সেন্টার-এর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়, যার মাধ্যমে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও উদীয়মান বিষয়সমূহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রোডম্যাপ প্রণয়ন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে আইওএম-এর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংস্থাটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে মালদ্বীপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং একইসঙ্গে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছেন।
তিনি মালদ্বীপ সরকারের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, কর্মসংস্থান, সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।
উভয়পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণকে কেন্দ্র করে যৌথভাবে সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সম্মেলন, সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হন।
বৈঠকটি পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয়ে সমাপ্ত হয়, যেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএম অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও মানবিক, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এমআই