নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে০২২০ ফ্লাইটে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ আগামী ৯ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুর ২টায় টাম্পায় বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি কালো আবর্জনার ব্যাগের মধ্যে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত আরেক শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহও পরে শনাক্ত করা হয়। যেখানে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়, সেখান থেকে কিছুটা দূরের একটি জলাশয় থেকে ২৬ এপ্রিল খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। গত ১ মে স্থানীয় পুলিশ সেটি বৃষ্টির মরদেহ বলে পরিবারকে নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, নিখোঁজের দুই দিন পর থেকেই ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনায় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট তদন্তকারী পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও এফবিআইয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখে বাংলাদেশ দূতাবাস। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দূতাবাস।
একে