মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলেহের জের ধরে পাষন্ড স্বামী তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত ১১ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর
উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীদাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী পলাতক রয়েছে।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল হতে নিহত গৃহবধূর মোরাদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ তাসলিমা খাতুন (৩৬)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীদাড়ি গ্রামে বসবাসকারী সাদ্দাম হোসেন মোড়লের স্ত্রী। গৃহবধূ তাসলিমা খাতুন দুই সন্তানের জননী ও চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ও ফাতেমা খাতুন দম্পতির মেয়ে।
ঘাতক স্বামী সাদ্দাম হোসেন মোড়ল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনাপোল এলাকার লোকমান হোসেন মোড়লের ছেলে। সে লক্ষীদাড়ি গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করতো।
লক্ষীদাড়ি গ্রামের ইউপি মেম্বার সন্তোষ কুমার ঘোষ জানান, সাদ্দাম হোসেন তার নানা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীদাড়ি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর বাড়িতে থাকতেন। এখন থেকে ১৫-১৬ বছর আগে দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্ত জীবনে তাদের সাদিয় ( ১৩) ও রুহান (৮) নামের একটি মেয়ে ও ছেলে রয়েছে।
সাদ্দামের এখন কোন ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকার কারণে বেকার ঘুরে বেড়ায়। অভাবের তাড়নায় তার বউ বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসলে সেই ছাগলটি সাদ্দাম চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সাদ্দাম হাতুড়ি দিয়ে তার স্ত্রী তাসলিমার মাথায় বাড়ি মারলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন সাদ্দাম তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত পৌনে ১২ টার দিকে জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদেও কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এমআই