শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আবেদনের যোগ্যতা পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি; তদন্তের নির্দেশ

শনিবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২৬
আবেদনের যোগ্যতা পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি; তদন্তের নির্দেশ

খুবি প্রতিনিধি:

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর নাম মো. খালিদ হাসান শান্ত। তিনি খুলনার সরকারি ব্রজলাল কলেজ থেকে প্রাণীবিদ্যা বিষয়ে চার বছরের বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ অক্টোবর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৭ ডিসেম্বর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে ২৭ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং একই দিনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই ১৬ বছরের শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হবে। পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অথবা সমাজবিজ্ঞানে তিন বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে, ১৫ বছরের শিক্ষা অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানে তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রির সঙ্গে ন্যূনতম দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা (১০ম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব) থাকাও গ্রহণযোগ্য। যেকোনো স্বীকৃত দেশি বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ বা দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।

অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরাও মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ না পেলেও শর্ত পূরণ না করেই বাইরের বিভাগের গ্রাজুয়েট ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। তারা প্রশ্ন তোলেন—প্রাণীবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক করা একজন শিক্ষার্থী কীভাবে একাধিক ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হলো, অথচ ভর্তি কমিটির কারও নজরে বিষয়টি পড়েনি?

ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. খালিদ হাসান শান্ত বলেন, তিনি পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আগে দেখেননি বলেই আবেদন করেছিলেন। শিক্ষকদের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন—শিক্ষকরা কীভাবে বিষয়টি খেয়াল করেননি।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান জানান, অফিসিয়াল পর্যায়ে অনিচ্ছাকৃত একটি ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। ভর্তি কমিটিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা ছিলেন এবং কোনো ইচ্ছাকৃত অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কীভাবে এটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল