নিজস্ব প্রতিবেদক:
যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, যিনি ১৬/১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান তা জনগণ বুঝে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগ এলাকায় মাতৃবাগান জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় নাহিদ বলেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি জোট, যাকে আর জোট বলা যাবে না—একটি দল, যিনি অনেকগুলো দলকে নিজের পেটের ভেতরে নিয়ে নিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র নষ্ট করে দিয়েছে। সেই দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা বলছি—সেই হুমকি, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই আমরা ৫ই আগস্ট ঘটিয়েছিলাম। আমরা কোনো হুমকি এবং রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না।'
এসময় তিনি আরও বলেন, 'সেই দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন, তিনি বললেন তার একটি প্ল্যান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। প্ল্যান থাকলে শেয়ার করুন, আমরা চাই বাংলাদেশে পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, তিনি কোথায় চিনিকল আছে, কোথায় নাই; কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় নাই; কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কী হবে; কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়—উনি কিছুই জানেন না।'
এসময় যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, যিনি ১৬/১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন—তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান আছে তা দেশের জনগণ অলরেডি বুঝে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।
নাহিদ এসময় বলেন, এমন কোনো প্ল্যান করবেন না, যা বাংলাদেশকে আবারও পিছিয়ে নিয়ে যাবে। এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করবে। এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা বাংলাদেশে আবার আধিপত্যবাদী রাজনীতি তৈরি করবে। নিজেদের জীবন থাকতে আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন হতে দেব না।
এসময় দেশের মানুষ আর কোনো প্রতারক, বেইমানদের কাছে দেশের ক্ষমতা, দেশের দায়িত্ব দিতে চায় না উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, একটা কথা বলা হচ্ছে—অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। তো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আপনাদের কী ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। এই অভিজ্ঞতা কোনো ভালো অভিজ্ঞতা না।
নাহিদ বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। জামায়াতে ইসলামী সেই মন্ত্রণালয়ে, ক্যাবিনেটে ছিল—তারাও সেটির অভিজ্ঞতা নিয়েছে। ফলে আমরা সেই পুরোনো কথা বলে আপনাদের বিব্রত করতে চাই না। ৫ই আগস্টের পরে আপনারা বাংলাদেশে যা করেছেন, এটাই যথেষ্ট আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার।
এসময় যাদের নিয়ত ঠিক আছে, অন্তরে দেশপ্রেম আছে, সততা আছে, দক্ষতা আছে—সরকার পরিচালনায় তাদের অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, এই ১১ দলীয় জোট—এটা একটা জোটের সরকার হবে। যেখানে নানামুখী মানুষ রয়েছে, নানা মতের মানুষ রয়েছে। এবং দেশ-বিদেশ থেকে আরও অভিজ্ঞ মানুষকে এনে এই সরকার পরিচালনা করা হবে। আমরা দেশের অভিজ্ঞ এক্সপার্ট মানুষদের নিয়ে ইশতেহার তৈরি করেছি। এনসিপি ইশতেহার তৈরি করেছে, জামায়াতে ইসলামী ইশতেহার তৈরি করেছে। আমরা সকল ইশতেহার সমন্বয় করে বাংলাদেশের সামনের সরকার পরিচালনা করব।
এসময় আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কেউ সেদিন ভোট চুরি করার চেষ্টা করলে, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি 'ফ্যাসিস্ট'দের মতোই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া দেশের মানুষ নতুন কোনো জালেমের আবির্ভাব দেখতে চায় না উল্লেখ করে নাহিদ এ সময় বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় পরিবর্তন, সংস্কার, ইনসাফ। ৫ই আগস্টের পরে নতুন কোনো জালেমের আবির্ভাব দেশের মানুষ দেখতে চায় না।
সংসদে যদি আবারও ঋণখেলাপিরা যায়, যাদের বিদেশি নাগরিকত্ব আছে তারা যদি সংসদে যায়, তাহলে দেশের কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা—এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ।
বক্তব্যে আসন্ন এই নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনই ১১ দলীয় জোটের সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ এসময় সমাবেশে উপস্থিত ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি জোটকে নির্বাচনে জয়ী করতে জোটের পাশে থাকার আহ্বান জানান। এছাড়াও সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটকে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা জেলার সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইনসহ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআই