আবদুল্লাহ কাদের, মালদ্বীপ প্রতিনিধি:
রোববার (৮ ফেব্রুয়ার) শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনি সিম্পসন ও মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে চ্যান্সারি ভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয় এবং বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও আইএলও-এর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আলোচনাকালে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর উল্লেখ করেন যে, মালদ্বীপ বর্তমানে শ্রমিক ঘাটতির সম্মুখীন এবং এই চাহিদা পূরণে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমশক্তি প্রেরণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যা নিরসনে আইএলও’র সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ উদ্যোগ গ্রহণ করলে স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অনেক সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিকভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও আইএলও-এর সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা অধিক কার্যকর ও টেকসই ফলাফল বয়ে আনতে পারে। এ প্রেক্ষিতে তিনি শ্রমিকদের সুরক্ষা, সহায়তা ও সমন্বয় জোরদারে তিন পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা কাঠামো বা চুক্তির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে মালদ্বীপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি মালদ্বীপ সরকারের নীতিগত কাঠামোর সঙ্গে আইএলও’র নীতিমালার সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর উভয়েই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সর্বোত্তম স্বার্থে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ন্যায্য শ্রমচর্চা এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে সমাপ্ত হয় এবং সকল পক্ষ এই বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ–মালদ্বীপ–আইএলও’র বর্ধিত সহযোগিতা মালদ্বীপে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমআই