সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের দুই বিঘা জমির তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জমি থেকে সব তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে সম্পূর্ণ ক্ষেত লন্ডভন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে তিনি চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন।
তবে রোববার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার তরমুজ ক্ষেতে ঢুকে সারিবদ্ধভাবে লাগানো চারাগাছ উপড়ে ফেলে জমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জমিতে গিয়ে আমিন আলী দেখেন, তার ক্ষেতের সব চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে। আশপাশের জমিগুলোতে তরমুজের চারা অক্ষত থাকলেও কেবল তার ক্ষেতেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার বিষয়ে আমিন আলীর ভাই মোমিন আলী বলেন, “আমার ভাই গরিব মানুষ, দিনমজুর। খেতে-খামারে কাজ করে সংসার চালায়। তার সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমরা এর বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পরে যখন আমরা একটু সুশাসনের আশা করেছিলাম, তখনই আবার রাতের আঁধারে ফসল নষ্ট করে আমাদের আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করা হলো।”
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাওলানা আমিন আলী। নির্বাচনের কয়েকদিনের মধ্যেই তার জমিতে এ ঘটনা ঘটায় তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হতে পারে।
মাওলানা আমিন আলী বলেন, “স্থানীয়ভাবে কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। আগে কখনো কারও সঙ্গে বিরোধও ছিল না। আমার মনে হয় রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই আমার ফসল নষ্ট করে আর্থিকভাবে আমাকে ক্ষতি করা হয়েছে। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিন আলীর স্ত্রী বলেন, “সারা বছর আমাদের পরিবারের অবলম্বন এই তরমুজ ক্ষেত। যারা আমাদের উপার্জনের পথ নষ্ট করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে পড়ানোর পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের ধারণা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরব ভূমিকা রাখায় তাকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একে