অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে শহীদ উদদীন চৌধুরী এ্যানী বলেন -কাউকে দুর্নীতি করতে দেয়া হবে না। সেই সুযোগ আর নেই। শহীদ উদদীন চৌধুরী এ্যানী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাহাবুদ্দীন সাবু,জেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা রুহুল আমীন মাস্টার, শিক্ষাবিদ প্রফেসর এজেডএম ফারুকী, প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান ও প্রফেসর লনী গোপাল ঘোষ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব, সমাজসেবক সৈয়দ বেলাল হোসেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা মোবারক হোসেন এবং হোসাইন আহমেদ হেলাল।
এছাড়া জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাব্বিরের পিতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি পুরো মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। বক্তারা শহীদদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদ উদদীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমেও একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে লক্ষ্মীপুরকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে আ হ ম মোস্তাকুর রহমান বলেন, প্রেস ক্লাব সব সময় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি মুক্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে সহায়তা করে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা দেন এবং লক্ষ্মীপুরের সার্বিক অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সুধী সমাবেশটি ছিল অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত। আলোচনা, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে জেলার উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার হয়।
একে