মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ। তেলের অভাবে জেলার ৯২টি পাম্পের মধ্যে অধিকাংশ পাম্প এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
দিনাজপুর জেলা শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে ‘পেট্রোল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও রশি বেঁধে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকে শহরের বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকের মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বোতল হাতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
সুলতান মাহমুদ নামে এক
মোটরসাইকেল চালক জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম, কিন্তু কোনো পাম্পেই তেল পাইনি। এখন গাড়ি ঠেলে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম-দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
রিপন নামে অপর এক চালক জানান, আমি জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী হতে হয়েছিলাম। কিন্তু মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কোথাও তেল পেলাম না। পরে এক জায়গায় মোটরসাইকেল রেখে কাজ শেষ করে ঠেলে ঠেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ীতে যাই। এভাবে চললে আমরা মহাবিপদে পড়বো।
এদিকে দিনাজপুর মডার্ণ মোড় রহমান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল কাদের জানান, গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ পাচ্ছি না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম, তাই বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সমতা পাম্প ম্যানাজার লাবু বলেন, আমরা নিজেরাও বিব্রতকর অবস্থায় আছি। প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের চাপে পড়তে হচ্ছে। তেল না থাকায় কিছুই করার নেই। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
ভোক্তভোগিদের অভিযোগ, হঠাৎ করে তেলের এমন সংকট তৈরি হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে যুক্তদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলার ইমরান হোসেন নামে মোটরসাইকেল চালক জানান, উপজেলার ৪টি তেলের পাম্পের মধ্যে বর্তমানে ৪টি পাম্পই বন্ধ রয়েছে। তেল না থাকায় মোটরসাইকেল চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তভোগিরা।
এমআই