সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কর্দমাক্ত ইবির ঝাল চত্বরে ফের ভোগান্তি, আশ্বাসে ঝুলে আছে সংস্কার

সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬
কর্দমাক্ত ইবির ঝাল চত্বরে ফের ভোগান্তি, আশ্বাসে ঝুলে আছে সংস্কার

তালুকদার হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ( ইবি) শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত স্থান ঝাল চত্বর। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের নিকটও স্থানটি এতটাই জনপ্রিয় যে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকাকালীন সময়েও স্থানটি আড্ডায় মুখরিত থাকে। কিন্তু বর্ষকাল এলে এই স্থানটিই কর্দমাক্ত হয়ে সকলের জন্য ভোগান্তির আখড়াই পরিনত হয়। শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের দাবি এবং সময় জার্নালে প্রকাশিত সংবাদের জেরে ১২ অক্টোবর বালু ফেলার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিল প্রশাসন। কিন্তু ৬ মাস যেতে না যেতেই পুনরায় বৃষ্টি শুরু হতেই ফের কর্দমাক্ত হয়ে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে এ স্থান।  এদিকে শিক্ষার্থীরা বারংবার জায়গাটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র আশ্বাসেই ঝুলে আছে ঝাল চত্বরের সংস্কার কাজ। ফলে অতিদ্রুত স্থানটির পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত চত্বরটি জুড়ে বিভিন্ন ধরনের স্টেশনারি, কফিশপ, টি-স্টল, ভাজাপোড়ার দোকান, খাবার হোটেল ও বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় করে, আড্ডা দেয়। ক্লাস শেষে দুপুরে খাবার খেতে ঝাল চত্বরের হোটেলগুলোতেই আসেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তা সহ ছাত্রসংগঠনগুলোও আড্ডা দেন এখানে। তবে বৃষ্টি হলেই বাঁধে বিপত্তি। পানিতে ডুবে গিয়ে কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে চত্বরটি। এতে দোকানদারিদের বেচাকেনায়ও বিঘ্ন ঘটে।

জানা যায়, গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর এ সমস্যা নিয়ে সময় জার্নালে ‘রাতে সুন্দর দিনে ভোগান্তি, ইবির ঝাল চত্বর’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরে একইবছরের ১২ অক্টোবর আমবাগানে বালু ফেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পরদিন ১৩ অক্টোবর বালু ফেলে কাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টিপাতে কাঁদা হওয়া ঠেকাতে পারেনি সেই বালু। একইসাথে পুরো স্থানটি ময়লা আবর্জনাতে জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।  যে কারণে স্থানটিকে অতিদ্রুত পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তোহিদুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর যাচ্ছে কিন্তু ঝাল চত্বর কাঁদামুক্ত হচ্ছে না। অথচ এই স্থানটিতে আমরা সবচেয়ে বেশি সময় আড্ডা দিই। কিন্তু বর্ষা এলেই যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয় তা মেনে নেওয়ার মতো না। গতবছর বালু ফেলা হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা স্থানটিকে সোলিং ইট দিয়ে ঢালাই করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, প্রশাসন হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। অথচ ইবির বর্তমান অথর্ব প্রশাসনের মাথায় যেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তাভাবনা আসতেই চায় না। গতবছর আমাদের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দেওয়া পর তারা বালু ফেলেছিল। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি হওয়ার পর পুনরায় আবার কাদায় ভরে গেছে এ চত্বর। আমরা আর কোনো নয়ছয় দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে সমগ্র ঝাল চত্বরকে পাকা করার পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।



বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা শীঘ্রই সেখানে বালুমাটি দিয়ে কাঁদা বন্ধ করার ব্যবস্থা করব। তবে পাকা করার জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন যার অনুমোদন এখনো আমরা পাইনি। তাই আপাতত পাঁকা করে দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারছি না।



একে


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল