আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতিসংঘের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না জানিয়ে তিনি তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মোহাম্মদ সাফা জানান, তেহরানের মতো প্রায় এক কোটি মানুষের শহরে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অন্ধকারে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ যখন ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি এই তথ্যের সত্যতা ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক জীবন বিসর্জন দিচ্ছি। আমি চাই না এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী হতে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল প্রতিরোধ করার এটিই আমার শেষ চেষ্টা।
জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
সাফা তার পদত্যাগপত্রে গত তিন বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবি’র স্বার্থ হাসিল করতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে।
সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং লেবাননের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনকেও আড়াল করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি যখনই ভিন্নমত পোষণ করার চেষ্টা করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এমআই