নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
আর ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করে বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এখনই যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষ কমিটির এ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, আগামী সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে ১১৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিল পাস করতে হবে। সে হিসেবে সংসদের হাতে থাকবে চারটি কার্যদিবস। যেসব অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে অনুমোদন হবে না সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইন না হলে অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ হয়ে যায়।
এদিকে সংসদে এখনই বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিরোধী দল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ তালিকার সব কটিতে তাদের আপত্তি নেই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রহিত করার সুপারিশ পাওয়া চারটির তিনটিই বিচার বিভাগ ও আদালত প্রশাসনের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধনী। অপরটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় অধ্যাদেশ।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এগুলোর মধ্যে ১১৩টিকে কোনো না কোনোভাবে সংসদে তোলার সুপারিশ করে এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশকে আইনি কাঠামোয় নেওয়ার পথ তৈরির সুপারিশ করা হয়।
তবে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গণভোট অধ্যাদেশসহ যে ২০টির তাৎক্ষণিক অগ্রগতি হচ্ছে না, সেগুলো নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মতভেদ। এগুলোই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি দলেরও মনোভাব এসব অধ্যাদেশকে আইনে রূপ না দেওয়ার পক্ষে। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
বিরোধী দলের আপত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।
সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে তোলার সুপারিশ পাওয়া ১৫টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোথায় কী সংশোধন আনা হবে, তার বিস্তারিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা হয়নি। ফলে বিল আকারে সংসদে তোলার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবেই তা স্পষ্ট হবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের প্রস্তাবে জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৫ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রস্তাবে সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যে ১৫টি সংশোধিত আকারে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশও রয়েছে। আগের আইনের সঙ্গে অধ্যাদেশটিতে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যোগ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ কী কী কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে, তাও যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এবার রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি শাস্তির বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
এমআই