রাইসা মেহজাবীন:
যে সময়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নতুনভাবে সামাজিক অগ্রগতির সংজ্ঞা লিখছে, সেই সময়ে মেহেদী হাসান এক উজ্জ্বল, দৃঢ় ও সচেতন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয় ; এটি এক গভীর দায়বদ্ধতা, চিন্তার বিকাশ এবং সমাজ পরিবর্তনের সাহসী অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাঁর একাডেমিক যাত্রার সূচনা। মানবিক শিক্ষার এই ভিত্তিই তাঁকে দিয়েছে ভাষার শক্তি, অনুভূতির গভীরতা এবং সমাজকে বোঝার সূক্ষ্ম দৃষ্টি। বর্তমানে তিনি University of Dhaka-এ সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নীতিতে এম.এস.এস. করছেন, যেখানে তাঁর জ্ঞানচর্চা আরও বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
শুধু দেশীয় শিক্ষা নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। Harvard Business School-এর মর্যাদাপূর্ণ লিডারশিপ প্রোগ্রাম (ALP) এবং International Anti-Corruption Academy (IACA), ভিয়েনা থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন কাঠামো ও পদ্ধতিতে এক্সিকিউটিভ ডিপ্লোমা অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বমানের নেতৃত্ব ও নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর চিন্তাকে দিয়েছে বৈশ্বিক পরিসর, যা তিনি দেশীয় বাস্তবতায় দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করছেন।
গত ১২ বছর ধরে বিতর্ক ও আবৃত্তির জগতে সক্রিয় থেকে মেহেদী নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন শক্তিশালী বক্তা ও সচেতন চিন্তাবিদ হিসেবে। এই অভিজ্ঞতার আলোতেই তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন Barishal Holiday School (BHS) একটি ব্যতিক্রমধর্মী ডিবেট উদ্যোগ, যা প্রতিবছর প্রায় ৩,৭৫০ শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এখানে শুধুমাত্র বিতর্ক নয়, শেখানো হয় জীবনদক্ষতা—কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, কীভাবে যুক্তি দাঁড় করাতে হয়, এবং কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়।
শৈশব থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। bdnews24.com-এ প্রায় ছয় বছর শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে দিয়েছে বাস্তবতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। এই পথচলা তাঁকে শিখিয়েছে একটি গল্প কেবল তথ্য নয়, এটি হতে পারে পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম।
মেহেদীর কাজের পরিধি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক নারীর ক্ষমতায়ন, কিশোরীদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, WASH গভর্ন্যান্স, জননীতি, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার। তিনি কাজ করেছেন Transparency International Bangladesh (TIB), Plan International Bangladesh, The Asia Foundation, BRAC, WaterAid সহ দেশের ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে। তাঁর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্য অধিকার আইন যা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে অপরিহার্য।
বর্তমানে তিনি Transparency International Bangladesh-এর ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে KYC প্রজেক্টে যুক্ত আছেন, যেখানে তাঁর লক্ষ্য একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠন।
মেহেদী হাসানের এই যাত্রা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে - সত্যিকারের নেতৃত্ব আসে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে। তাঁর গল্প আজকের তরুণদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা - ভাবতে শেখো, প্রশ্ন করতে শেখো, এবং সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসো।
এমআই