বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, নুসরাত তাবাসসুম বিকল্প প্রার্থী

বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, নুসরাত তাবাসসুম বিকল্প প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা এই পদে বহালের সুযোগ না থাকলেও শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় প্রার্থী হয়েছেন তিনি। তার এই মনোনয়নের বৈধতা নেই বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

তবে এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এ জন্য গতকাল তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান বলেন, তারা জমা দিয়ে থাকতে পারে। যদি সময়ের পরে জমা দিয়ে থাকে তবে তা আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গ মনিরা শারমিন : আইনজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, আরপিও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না। জবাব হচ্ছে অবশ্যই প্রযোজ্য হবে। কারণ জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ৮(২) ধারায় সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পাশাপাশি অন্য কোনো আইনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের বাইরে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরপিও-ই হচ্ছে ওই আইন। যাচাইবাছাইয়ের সময় নির্বাচন কমিশন এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে বলেও মনে করেন তারা।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে ১৩টি। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন, জাগপা থেকে একজন এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক শিশুর মাকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রার্থীরা গতকাল নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জোট মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। মনিরা শারমিন ছাড়াও এনসিপির নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত জোট।

এনসিপির নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন। মনিরা শারমিনের ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য রয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বা সদস্য থাকার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, যদি তিনি- প্রজাতন্ত্রের চাকরি বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিরক্ষা পরিষেবা থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করে থাকেন, যদি না তার পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে তিন বছর সময় অতিবাহিত না হয়ে থাকে।’

সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বিষয়ে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনের ৮ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ বা অন্য কোনো আইনের অধীন সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার অযোগ্য কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হইবার যোগ্য হইবেন না।’

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের যে বিধান সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, একই বিধান সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কোনো সরকারি চাকরিজীবী চাকরি ছাড়ার তিন বছর শেষ না হলে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনেও সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে সংসদ সদস্যদের হিসেবে নির্বাচিত বা পদে থাকার বিষয়ে যে যোগ্যতা অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, একই বিধান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনেও যোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে ৬৬ অনুচ্ছেদের পাশাপাশি অন্য কোনো আইনের কথা বলা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো আইন বলতে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ বা আরপিওকেই বোঝানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দেওয়া কতটুকু বৈধ হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি ভাবে তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি চাকরি ছেড়েছেন তিন মাস হয়নি। মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের সময় নির্বাচন কমিশন অবশ্যই এসব বিষয়ে আমলে নেবে বলেই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

এ বিষয়ে মনিরা শারমিনের বক্তব্য জানতে তাকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রশ্ন লিখে তাকে এসএমএস করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। তা বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। দুই সপ্তাহ পর ১২ মে ভোট গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে। নিয়ম হলো, সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু দল বা জোট তাদের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বলে এ নির্বাচনে ভোটের আর প্রয়োজন হয় না।

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল