রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আইসিএমএবি আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায়

ভ্যাট ও আয়কর রাজস্ব বাড়াতে আসছে এআর কোড: এনবিআর চেয়ারম্যান

শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
ভ্যাট ও আয়কর রাজস্ব বাড়াতে আসছে এআর কোড: এনবিআর চেয়ারম্যান

সময় জার্নাল প্রতিবেদক:

ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি রোধে পণ্যের মোড়কে এআর কোড বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই কোড ছাড়া কোনো পণ্য ফ্যাক্টরি থেকে বের হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন এনবিআরচেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ উপলক্ষে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এই আলোচনার আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবির সভাপতি মো. কাউসার আলম এফসিএমএ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইসিএমএবি সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এফসিএমএ এবং আইসিএমএবির সাধারণ সম্পাদক মনজুর মো. শাইফুল আজম এফসিএমএ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রঞ্জন কুমার ভৌমিক এফসিএমএ, মো. মশিউর রহমান এসিএমএ এবং মো. মহিমান এফসিএমএ।

এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি পণ্যের গায়ে একটি ইউনিক ডিজিটাল কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও কর পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে। “এআর কোড ছাড়া কোনো প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরি থেকে বের হতে পারবে না। প্রতিটি পণ্য স্ক্যান হয়ে সরাসরি আমাদের ডাটাবেজে যুক্ত হবে,”।

প্রাথমিকভাবে তামাক খাতে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, “টোব্যাকো খাতে আমাদের বড় রাজস্ব ক্ষতি হয়। তাই এখান থেকেই শুরু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে সব প্যাকেটজাত পণ্য—সাবান, শ্যাম্পু, পানি, বেভারেজসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যে এটি প্রয়োগ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ভ্যাট নয়, আয়কর আদায়ও বাড়বে। কারণ উৎপাদনের সঠিক তথ্য সরাসরি সরকারের ডাটাবেজে চলে আসবে, ফলে কর ফাঁকির সুযোগ কমে যাবে।

এদিকে সাধারণ ভোক্তারাও এআর কোড স্ক্যান করে পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এসময় আবদুর রহমান খান ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যেটি আরও চিন্তাভাবনা করছি যে কথাটি বলা হচ্ছে যে ভ্যাটের যে বেস, এটি এত ছোট, এটাকে আমরা কীভাবে বড় করব। আর ভ্যাট যে কমপ্লেক্স, এই ভ্যাটের এই কমপ্লেক্স ভ্যাটটাকে আমাদের বিশেষ করে নিউ যারা এসএমই এন্টারপ্রাইজ এবং যারা এখনও নেটে আসে নাই তাদের জন্য কীভাবে কমপ্লায়েন্ট করা যায় শুরুটা করা যায়। এ ব্যাপারে আমরা কিছু চিন্তাভাবনা করছি, আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। আমি আমাদের টিমকে বলবো এই বিষয়ে কাজ করার জন্য।”

তিনি জানান, উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। “ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে ব্যাপক আন্ডার রিপোর্টিং হয়। ফ্যাক্টরিতে যত পণ্য তৈরি হয়, তার পুরোটা রিপোর্টে আসে না,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“আমরা চিন্তা করছি, নতুন রিটেইলারদের জন্য এলাকা ভিত্তিক নির্দিষ্ট বা ফিক্সড ভ্যাট নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে তাদের আর জটিল হিসাব বা অডিটের ঝামেলায় পড়তে হবে না। নির্ধারিত ভ্যাট পরিশোধ করলেই তারা কমপ্লায়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে,”।

তিনি আরও বলেন, এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিদ্যমান ট্যাক্স-ভীতি কমবে এবং আরও বেশি ব্যবসায়ী করের আওতায় আসবে। “সহজ পদ্ধতি চালু করা গেলে মানুষ স্বেচ্ছায় কর দিতে আগ্রহী হবে,”।

সভাপতির বক্তব্য ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেয়ার কথা উল্লেখ করে আইসিএমএবির সভাপতি মো. কাউসার আলম এফসিএমএ বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রথম বাজেট, যা একটি বিশেষ সময়ে পেশ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত দুই মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী এবং দেশীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এসময় জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা বলেন আইসিএমএবির সভাপতি।

অনুষ্ঠানের শেষে আইসিএমএবির সেক্রেটারি মনজুর মো. সাইফুল আজম এফসিএমএ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল