নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত অপসারণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।'
রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তার কিছু কুকীর্তির কথা হাউসের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া। তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দীন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে।'
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, '২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ দেশে-বিদেশে এই রিপোর্ট ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।'
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?'
এমআই