আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধের মধ্যেই ইরানের জন্য স্থলপথে বাণিজ্য পথ খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে পণ্য পরিবহন বা ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর হলো।
রুট ও সুবিধাসমূহ: ঘোষিত রুটগুলো পাকিস্তানের করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদর বন্দরকে ইরানের সীমান্ত পারাপার গাব্দ ও তাফতানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে গোয়াদর-গাব্দ করিডোরটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, যা দিয়ে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। করাচি থেকে যেখানে সময় লাগত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। এই রুটের ফলে পরিবহন খরচ ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই করিডোরটি আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কমিয়ে দেবে। গত বছরের অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে এবং সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে তোরখাম ও চামান সীমান্ত বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য নির্ভরযোগ্য নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌসের মতে, পাকিস্তান এখন পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের জন্য আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে পারবে। এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে পশ্চিম এশিয়ায় চীন-সমর্থিত বাণিজ্য রুটগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তবে বিশ্লেষকরা সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে, চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা চলছে, পাকিস্তানের এই নতুন বাণিজ্যিক অবস্থান সেখানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা-ও এখন বড় আলোচনার বিষয়। তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
একে