রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মা দিবস স্পেশাল

মায়ের মমতায় গড়া পৃথিবী

রোববার, মে ১০, ২০২৬
মায়ের মমতায় গড়া পৃথিবী

নাফিজা আক্তার: 

সকালের নাস্তা থেকে গভীর রাতের অপেক্ষা...সন্তানের প্রতিটি প্রয়োজনের নীরব সঙ্গী মমতাময়ী মা। নিজের ক্লান্তি, দুঃখ কিংবা না-পাওয়ার গল্পগুলো আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন গড়ে তোলাই যেন তাঁর প্রতিদিনের কাজ। অসুস্থ শরীর নিয়েও সন্তানের জন্য রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকেন মা। দূরে থাকলেও বারবার ফোন করে খোঁজ নেওয়া, কিংবা সন্তানের ছোট্ট সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মা। এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে একজন মায়ের পুরো পৃথিবী। তাই মা দিবস মানে আমার কাছে আলাদা কোনো দিন নয়; মায়ের জন্য ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রতিদিনের। তিতুমীর কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের মায়ের গল্প। 

মা মানে আমার কাছে শুধু একটা শব্দ নয়, মা মানে আমার পৃথিবী। আমার মা আমাকে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। তার ভালোবাসার নেই কোনো স্বার্থ , নেই কোনো প্রত্যাশা। আমার মা চায় আমি যেন ভালোমতো পড়াশোনা করি এবং ভালো একজন মানুষ হিসেবে দেশের সেবা করতে পারি । আজ মা দিবসে আমি বলতে চাই মা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।


তৌহিদুল ইসলাম 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ঠিকানা। পৃথিবীর সব সম্পর্কের ভিড়ে একজন মানুষ নিঃশব্দে সন্তানের সুখের জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেন, তিনি মা। দূরে থাকলেও প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি, মায়ের মায়া কতটা গভীর। ব্যস্ততার শহরে দিন শেষে যখন ক্লান্ত লাগে, তখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মায়ের মুখটা, তার কণ্ঠে বলা ছোট্ট খোঁজ নেওয়ার কথাগুলো। মা কখনো নিজের কষ্টের কথা বলেন না, অথচ সন্তানের সামান্য কষ্টও তাকে ভীষণ নাড়া দেয়। তাই মা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি এক টুকরো শান্তি, এক টুকরো সাহস, এক আকাশ ভরসার নাম। বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।


অহনা পোদ্দার 

দর্শন বিভাগ

মায়ের ত্যাগ সন্তানের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে পড়ালেও শেষ হবার নয়। কারন, সন্তান দুনিয়াতে আসায় আগ থেকেই মায়ের সংগ্রাম শুরু হয়, নিজের শরীরের রক্ত, পুষ্টি দিয়ে সন্তান নিজের পেটে লালন করে দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ করেন। এই ভূমিষ্ঠ করার সময় কালীন ব্যাথা, কষ্ট একজন মা তার সন্তানের মুখ দেখেই সব ভুলে যান। তারপর থেকে প্রাপ্ত বয়স হওয়া পর্যন্ত সন্তানের সকল ছেলে মানুষী সহ্য করেন। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। এগুলো কোনো দায়িত্ব নয়, বরং তাঁর স্বভাবজাত ধর্ম। শৈশব হলো একজন সন্তানের সবচেয়ে স্মৃতিময় সময়। সে সময় মায়ের আঁচলের ছায়াতলে আদর, যত্ন ও ভালোবাসা আমাদের সুস্থ সবল ও একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তা বড় হয়ে আমরা নিজেদের চরিত্রে প্রতিফলন পাই।

মো. রাতুল হাসান

ইকোনমিক্স

শিক্ষার্থী বলেন, বাড়ি থেকে দূরে থাকি বলে মাকে আরও বেশি অনুভব করি। আমি অসুস্থ হলে মা সারারাত জেগে থাকেন। পরীক্ষার সময় আমার পছন্দের খাবার রান্না করে সামনে তুলে দেন। অভাবের সময়েও মা নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন। কবিতার সুরে তাই তো আমি বলি, "মায়ের মুখের হাসি যেন ভোরের প্রথম আলো,

তার মমতার ছায়ায় জীবন লাগে ভালো।

নিজে কষ্ট লুকিয়ে সন্তানের সুখ গড়ে যায়,

মা নামের সেই মানুষটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় ভরায়।"

মো. সিনান মোর্শেদ

ইংরেজি বিভাগ

ছোটবেলায় খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়ে মনের অজানতে যে শব্দটি বের হতো তা হলো মা। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও পরম বন্ধু। তাইতো মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা প্রকাশের দিন হিসেবে পালন করা হয় মা দিবস। মাকে নিয়ে লেখা হয়েছে কত কবিতা, গান। কিন্তু পৃথিবীর সকল সাহিত্য মিলিয়ে ও মায়ের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়। স্নেহের ছায়ায় পরম মায়ায় আগলে রাখেন মা। জীবন ফুরিয়ে যায়, বাঁধন ফুরায় না। তাইতো মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা। 

মো: সাকিল আহমেদ 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট

মায়ের ভালোবাসা কখনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। জীবনের প্রতিটি ধাপে আমরা যতই বড় হই না কেন, মায়ের কাছে সবসময় ছোটই থেকে যাই। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও মা সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, খোঁজ নেন, চিন্তা করেন। নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখে সন্তানের মুখে হাসি দেখতেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান। যত বড় হচ্ছি বুঝতে শিখেছি, মায়ের মমতায় এই পৃথিবী ঘেরা। মায়ের উপস্থিতি সন্তানের জন্য বড় আশীর্বাদ। পৃথিবীর সব নিরাপত্তা, শান্তি আর মমতা যেন মায়ের আঁচলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। মা দিবসে শুধু একটি চাওয়া পৃথিবীর প্রতিটি মা ভালো থাকুক।


লেখক: নাফিজা আক্তার

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ 


সময় জার্নাল/এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল