নিজস্ব প্রতিবেদক:
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল-এর ২০২৬-২০২৮ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে আইন লঙ্ঘন ও নির্বাচনের পূর্বে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে।
‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল’র আগামী দুই বছরের জন্য ১৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল ঘোষিত ফলাফলে পরিচালনা পর্ষদের এই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে মহিউদ্দিন হেলাল, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে খবির উদ্দিন আহমেদ, সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে শহীদ হোসেন শামীম এবং ট্রেজারার হিসেবে মেজবাহ উল আলম পুনর্বার নির্বাচিত হন। তবে তাদের টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়া নিয়ে আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি কোন বাণিজ্য সংগঠনে পরপর দুইবারের বেশি একই পদে নির্বাচন করতে পারবে না। এই প্রেক্ষাপটে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল-এর বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, নির্বাচনের আগে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এতে করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট, খুলনার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আজম মালিক বলেন, “এই নির্বাচনটি মূলত একটি অনিয়মের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।যেখানে মূল ভিত্তিটাই সঠিক নয়, সেখানে কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
“যদি নতুনদের সুযোগই না দেওয়া হয়, তবে অন্য প্যানেল আসবে কোত্থেকে? নির্বাচনের আগে যে ধরণের প্রচার বা আলোড়ন থাকা উচিত ছিল, তার কিছুই এখানে হয়নি। যোগ্য লোকজনকে এই সেক্টরে আসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে না, যা আমাদের বড় ব্যর্থতা।”
নেতৃত্বের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আজম মালিক বলেন, “হসপিটালিটি একটি টেকনিক্যাল সেক্টর। এখানে যারা নেতৃত্বে আছেন, তাদের অনেকেরই এই ইন্ডাস্ট্রিতে বাস্তব কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কারো হয়তো অন্য ব্যবসা রয়েছে, কিন্তু হসপিটালিটি সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন। অথচ যারা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ টনি খানের মত মানুষকে বাদ দেয়া হয়েছে এখান থেকে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে এই খাতে এগিয়ে নিতে হলে পুরো সিস্টেম রিভাইজ করা উচিত। প্রতিবেশী দেশগুলো অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে এই সেক্টরকে নতুনভাবে সাজাতে হবে।”
এ বিষয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি একেএম বারী বলেন, তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়ায় এই সংগঠনের ক্ষেত্রে বানিজ্য সংগঠনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে কিনা আমার জানা নেই।
সময় জার্নাল/এমআই