ডা: কাজী নওশাদ হোসেন:
বিশ্ব পরিবার দিবস প্রতি বছর ১৯ মে বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালে এই দিবস ঘোষণা করে, যাতে পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে আরও গুরুত্ব দেওয়া যায়। পরিবার মানবজীবনের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভালোবাসা, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটে। একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবার দিবসের প্রতিপাদ্য হলো —“পরিবার, বৈষম্য এবং শিশুর কল্যাণ” এ বছরের প্রতিপাদ্যে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক নিরাপত্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পরিবারকে শক্তিশালী ও সহায়ক পরিবেশ প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের কারণে পারিবারিক বন্ধন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই বিশ্ব পরিবার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে পরিবারকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আসুন, বিশ্ব পরিবার দিবসে আমরা পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা, শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি।
আমাদের সমাজে বিশ্ব পরিবার দিবসের গুরুত্ব
বিশ্ব পরিবার দিবস আমাদের সমাজে পরিবারব্যবস্থার গুরুত্ব ও মূল্যবোধকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিবার হলো সমাজের মৌলিক ও প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান, যেখানে একজন মানুষ জন্মের পর প্রথম শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবতা ও সামাজিক আচরণ শিখে থাকে। একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও আদর্শ পরিবারই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ ও পারিবারিক দূরত্বের কারণে পারিবারিক বন্ধন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবার দিবস পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, আন্তরিক ও মানবিক করার গুরুত্ব তুলে ধরে। পরিবারে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব পরিবার দিবসের অন্যতম গুরুত্ব হলো শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করা। একটি নিরাপদ ও স্নেহময় পারিবারিক পরিবেশ শিশুদের মানসিক, শারীরিক ও নৈতিক বিকাশে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রবীণ সদস্যদের সম্মান, নারীর মর্যাদা এবং পারিবারিক ঐক্য রক্ষার বিষয়টিও এই দিবস আমাদের সামনে তুলে ধরে।
এছাড়া পরিবার সামাজিক অপরাধ, মাদকাসক্তি, সহিংসতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন একজন মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
অতএব, বিশ্ব পরিবার দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক উদ্যোগ। আমাদের সকলের উচিত পারিবারিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা।
লেখক: ডা: কাজী নওশাদ হোসেন, রক্ত পরিসঞ্চালন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ