শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কুরবানির জন্য সাতক্ষীরায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত, চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার বেশি

বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
কুরবানির জন্য সাতক্ষীরায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত, চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার বেশি

মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার ৭ উপজেলায় গবাদি পশুর খামারগুলোতে এখন ব্যাপক ব্যস্ততা এবং প্রস্তুতি চলছে। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় কুরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এসব প্রস্তুুুতকৃত পশুর বিপরীতে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। এতে চাহিদার তুলনায় জেলায় প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু বেশি থাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

ঈদের আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি রয়েছে। ভাল দাম পাওয়ার আমায় শেষ মুহুর্ত্বে সাতক্ষীরায় খামার গুলোতে কুরবানির পশু লালন পালনে প্রাণান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন খামারিরা। গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ খুবই সীমিত থাকায় স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভবান হয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ভাল দাম পাওয়ার আশায় এ বছর অনেকেই নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালন করছেন। অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার থেকে গবাদি পশু বিক্রি শুরু করেছেন। তবে এবার পশুখাদ্যের চড়া দামের কারণে বিনিয়োগ তুলে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির জন্য এক লাখের বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪৯ হাজারের বেশি, ছাগল ৪৪ হাজার এবং ভেড়া রয়েছে ৬ হাজার। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে। 

জানা গেছে, এখন থেকে গরু-ছাগলের বাজার কুরবানীর পশুর চাহিদা বাড়বে। গরুর খাদ্যের তালিকায় খামারীরা প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমেরভূষি, ধানেরকুঁড়া এবং নিজেদের তৈরি দানাদার খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করছেন। 

ব্যস্ত খামারীরা পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করছেন। তবে গবাদিপশু পালন করতে নানাধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন খামারীরা। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার গবাদিপশু পালনে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে শঙ্কিত খামারীরা।

তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, গমের ভুসি, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈলসহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। ফলে পশুর দাম আশানুরূপ না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।একই কথা জানান পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ। তাঁর খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম ধরেছেন ৮ লাখ টাকা। বাজারে বড় গরুর ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন। অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক খামারি দেশি পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করেন লাভের আশা করছেন।

বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ জানান, তাঁর খামরের ১০টি গরুকে দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে বড় করছেন। এতে খরচ কিছুটা কম হওয়ায় তিনি লাভের আশা করছেন।

স্থানীয় খামারী আলমগীর বলেন, গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারীরা ভালো দাম পেয়েছিল। সেই আশা নিয়েই এবার বেশি করে কুরবানির পশু লালন-পালন হয়েছে। বাজারে কুরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পেলে খামারীরা লাভবান হবে বরে তিনি আশা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্ততু আছে। জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৮২ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে এবর মজুদ আছে এক লাখের বেশি। প্রায় ১৮ হাজার পশু উদবৃত্ত রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় এবার দেশি খামারিরা ভালো বাজার পাবেন বলে আশা করছি। অবৈধ পথে গরু আসা রোধে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির জন্য বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচ হলেও পশুখাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষুদ্র খামারিরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল