আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমবারের শুরুর দিকের লেনদেনে তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। কারণ, ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল তাদের সেনাদের লেবাননের আরও গভীরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম ২ দশমিক ৩৭ ডলার বা ২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ২৮ ডলারে ওঠে।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনার ঠিক পরেই সংঘর্ষের এই তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শীঘ্রই তাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে—এমন প্রত্যাশা ক্ষীণ হয়ে যায়। ওই প্রত্যাশার কারণেই শুক্রবার ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম যথাক্রমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ করেছিল।
ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বিস্তৃত ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে পরিণত হয়েছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ তাদের মিত্র ইরানের সমর্থনে ইসরায়েল সীমান্তের ওপারে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করলে এই সংঘাতের সূচনা হয়।
দুই পক্ষ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও তারা এখনো একে অপরের দিকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে তিনি শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবেন। এর ফলে আলোচকদের স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মূল বিরোধের সমাধান খোঁজার জন্য আরও সময় পাওয়া যাবে। এ ধরনের যেকোনো চুক্তিতে ইসরায়েলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, ইরানও বারবার বলেছে যে হিজবুল্লাহকে অবশ্যই সেই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে এক বিশ্লেষণী নোটে উল্লেখ করেছেন আইজি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর। তিনি বলেন, এর ফলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় চালু হলেও তেলের বাজারে স্বস্তি আসতে বেশি সময় লাগতে পারে।
সাইকামোর বলেন, 'এমনকি কোনো চুক্তি হলেও সেটি বাজারে বিপুল পরিমাণ নতুন সরবরাহ এনে দেবে না।'
একজন অ্যাক্সিওস সংবাদদাতা শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আরও মাইন পাতার চেষ্টাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করার পরপরই, ইরান সপ্তাহের শুরুর দিকে এই প্রণালিতে আরও মাইন পেতেছে।
বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত এই প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে।
সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সপ্তাহান্তে প্রকাশিত চীনের হতাশাজনক অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে। ওই তথ্যগুলোতে দেখা গেছে, দেশটির কারখানাগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি গতি হারাচ্ছে—এমন উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রপ্তানি হ্রাস এবং ব্যয়জনিত চাপের কারণে দেশটির অর্থনীতি সংকোচনের মুখে রয়েছে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমআই