মোঃ রানা ইসলাম, শেকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সোসাইটি অব এগ্রোনোমি (BSA)-এর ২৪তম বার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ক্যাম্পাসের টিএসসি মিলনায়তনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। “ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা: টেকসই কৃষির জন্য কৃষিতাত্ত্বিক উদ্ভাবন” শীর্ষক এ সম্মেলনে দেশের কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ ও গবেষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেকৃবির এগ্রোনোমি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন বিএসএ এর সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. রেজাউল করিম; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আব্দুস সালাম; বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান; বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. মাহবুব বজজাজ; লাল তীর সিড লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং ইরি বাংলাদেশের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন।
আশা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদ সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, ক্লাইমেট-স্মার্ট পদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্য ও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে ভবিষ্যতের কৃষি কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।”
অন্য বিশেষ অতিথিরা আরও বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি জলবায়ু পরিবর্তন, মাথাপিছু কৃষিজমি হ্রাস, সম্পদ সংকট, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, পানি সংকট, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং বাড়তে থাকা খাদ্য চাহিদার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি থেকে স্থিতিশীলতা অর্জনে উদ্ভাবনী ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি–চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, ক্লাইমেট-স্মার্ট পদ্ধতি, ফসল বৈচিত্র্য, দক্ষ পানি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কৃষিবিজ্ঞান আগামী কৃষি ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হতে হবে। দেশের ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, নীতি সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর প্রযুক্তি সম্প্রসারণকে আরও জোরদার করতে হবে। এই সম্মেলনে ভাগ করা জ্ঞান, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের টেকসই কৃষি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সম্মেলনের মধ্যে বাংলাদেশ এগ্রোনোমি সোসাইটি (BSA) কৃষিবিজ্ঞান ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করে। এ বছরের জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (ADB), বাংলাদেশ এর সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ড. নূর আহাম্মেদ খন্দকার এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনোমি বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান । গবেষণা, শিক্ষা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়াও ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মিটিগেশন’, ‘সয়েল হেলথ, ফার্টিলিটি অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’, ‘সিড অ্যান্ড উইড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার’ এবং ‘ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড স্মার্ট ফার্মিং’—এই চারটি থিমের ওপর মোট ৬২টি গবেষণা উপস্থাপনা এবং ৪০টি পোস্টার উপস্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত গবেষকেরা।
এমআই