বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

বিচিত্র কার্যক্রমে বছর শেষ করল ইবি ছাত্রদল

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১, ২০২৬
বিচিত্র কার্যক্রমে বছর শেষ করল ইবি ছাত্রদল

তালুকদার হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:

মির্জা গালিবের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে। উক্তিটি হলো—“জীবন বড়ই বিচিত্র। সন্ধ্যা কাটেনা অথচ দিব্যি বছর কেটে যাচ্ছে”। এ উক্তির মতো করেই চোখের পলকেই শেষ হয়েছে ২০২৫ সন। এ সনে দেশজুড়ে ঘটেছে বিভিন্ন ঘটনা, এসেছে বিভিন্ন পরিবর্তন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) এর বাহিরে নয়। নানা পালাবদল, পরিবর্তন ও ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসবের পেছনে ভূমিকা রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশবাদী, স্বেচ্ছাসেবীসহ বিভিন্ন সংগঠনের। তবে উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন ঘটনা ও অবদানের জন্য আলোচনায় ছিল শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেগুলোয় তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক তালুকদার হাম্মাদ।

বছরের প্রথম দিকেই শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলাতে বেঞ্চ তৈরি করে সংগঠনটি। পরবর্তীতে ১৫ই মার্চ প্রায় দুহাজার শিক্ষার্থীর জন্য ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের উদ্যোগ গ্রহণ করে তারা। পরে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া গুচ্ছ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ভর্তি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, ফুল ও উপহার প্রদান, ইমারজেন্সি ওষুধ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে তারা। একইসাথে দিনগুলোতে ক্যাম্পাস ও প্রধান ফটকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় তারা।

এদিকে, সংগঠনটি বছরের মাঝামাঝি সময়ে হত্যার শিকার হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ'র খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ছিল সরব। এ দাবি আদায়ের জন্য এ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা। এ দাবিতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া ৪৯তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য বাস সুবিধার দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল সংগঠন। এরই প্রেক্ষিতে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সুবিধা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে বৃষ্টি হলেই পানিতে ভরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আড্ডাস্থল ঝাল চত্বরে বালি ফেলার জন্য অক্টোবর মাসে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেয় তারা। এরই প্রেক্ষিতে সংস্কার করা হয়েছে স্থানটি। এছাড়া নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আয়োজনের বিভিন্ন ঘাটতি থাকায় আলোচনা সভা বর্জন করেছিল সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। একইসাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে তারা।

তাছাড়া, ১৬ ই ডিসেম্বরে প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য 'মুক্ত বাংলা'র সৌন্দর্য বর্ধনে উদ্যোগ না নেওয়ায়, রং করার উদ্যোগ গ্রহণ করে সংগঠনটি। এছাড়া নতুন প্রশাসনের আওতায় এ বছরে অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড থেকে ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপসারণ ও ফ্যাসিস্ট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

তা ছাড়া, বছরজুড়ে ভর্তি ফি, হল ফি, পরীক্ষা ফি কমানো, জিয়া কমপ্লেক্স স্থাপন, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, মহাসড়ক সংস্কার, ডাস্টবিন স্থাপন, চিকিৎসা কেন্দ্রের উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট ও সেশনজট নিরসন, সার্টিফিকেট উত্তোলন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, অ্যাকাডেমিক ও উন্নত পরিবহন সেবার ব্যবস্থাকরণসহ বিভিন্ন স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।

এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছলতার কারণে ভর্তি হতে না পারা বা ফর্ম ফিলাপ করতে না পারা শিক্ষার্থীদেরকে আর্থিক সাহায্য করেন সংগঠনটি। তা ছাড়া, বৃক্ষ রোপণ করা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন, ভ্যান চালকদের রেইন কোর্ট প্রদানসহ আরও ঝুড়ি ঝুড়ি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা ই হয়েছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য। সে লক্ষ্যেই আমরা ৪৭ বছর ধরে কাজ করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ সনে আমরা নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম। এবং আমাদের সব কর্মসূচি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পজিটিভ ভূমিকা পালন করেছে। বিগত বছর থেকে শিক্ষা নিয়ে এ নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করব, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

 শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে কাজ করে যাচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, “ আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— ছাত্রদল যেভাবে দায়িত্বশীলতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছে, তাতে শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদলই হবে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বস্তির সংগঠন। গত এক বছরে আমরা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে, তাদের আস্থা ও ভালোবাসাকে শক্তি করে সংগঠন পরিচালনা করে যাবো।”

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল