বুধবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২৬
সাইফ রসুল খান,খুবি প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ১১টার দিকে হাদী চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন হল, খান বাহাদূর আহসানউল্লাহ হল ও খান জাহান আলী হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে পুনরায় হাদী চত্বরে এসে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে, কোর্স রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়াতে হবে এবং ডিসিপ্লিনভিত্তিক ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন,
“কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই টাকা অনেক বেশি। আমরা অযৌক্তিক কোনো ফি মেনে নেব না। রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে।”
ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস। শুরু থেকেই এখানে কোনো রাজনৈতিক চর্চা ছিল না। আগে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হতো। কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে রাজনীতি ঢোকানো হবে এবং শিক্ষকদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই তথাকথিত প্রতিনিধি পদ্ধতি মেনে নেব না।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, এক কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে, রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়াতে হবে এবং ডিসিপ্লিনভিত্তিক ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতি বিলুপ্ত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, প্রশাসন ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এতে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে সব সিদ্ধান্ত যেন কেন্দ্রীয়ভাবে (র্যাগ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে) আলোচনা করে নেওয়া হয়। তারা ডিসিপ্লিন প্রধানদের মাধ্যমে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতিকে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে বাধ্য হয়। সে সময় প্রতি ক্রেডিট ঘণ্টার ফি ৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চলতি বছরে রেজিস্ট্রেশনের সময় শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য করেন, মোট ফি আগের মতোই রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মাজিদ মোস্তফা বলেন,“আমরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রশাসন নেবে।”
কোর্স ফি বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন,“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করা হয়নি।”
একে