আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ১২টি স্থানে একযোগে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের কমপক্ষে ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। আর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, ভারতের মদতপুষ্ট ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানজুড়ে ১২টি স্থানে হামলা চেষ্টা করে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ তাদের সব হামলাই ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
মূলত, আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তানি ইসলামপন্থী নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সন্ত্রাসীদের সম্বোধন করতে ‘ফিতনা আল খারেজি’ এবং পাকিস্তান জুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের কথিত ভূমিকার জন্য ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।
সূত্র আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এখানো বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এতে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসীর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলা ব্যর্থ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রসংশা করেছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত ১০ সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অশুভ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেওয়া সাহসী পুত্রদের আমি সালাম জানাই। জাতি তার বীর সন্তানদের জন্য গর্বিত, যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তারাই হলেন প্রকৃত বীর’।
বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তা শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, বেলুচিস্তানের কয়েকটি স্থানে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) ব্যর্থ করে দিয়েছে। গত দুই দিনে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার পরপরই এসব হামলা হয়েছে।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের হারনাই এবং পাঞ্জগুর জেলায় গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ৪১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানে মোট ৮৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র।
পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ‘প্রথমে হারনাই জেলার উপকণ্ঠে ফিতনা-আল-খারেজির উপস্থিতির খবর পাওয়া পরে ওই এলাকায় একটি আইবিও পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনার সময় সৈন্যরা কার্যকরভাবে গোপন আস্তানায় আক্রমণ করে এবং তীব্র গুলি বিনিময়ের পর ৩০ জন ভারত সমর্থিত খারিজকে জাহান্নামে পাঠানো হয়।’
এসময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, যেগুলো উতোমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংস করেছে বলেও জানায় আইএসপিআর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পৃথকভাবে পাঞ্জগুর জেলায় একটি আইবিও অভিযানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছিল এবং ফিতনা-আল-হিন্দুস্তানের ১১ জন ভারত- সমর্থিত সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।’
নিহত সন্ত্রাসীরা অতীতে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল দাবি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর ব্যাপক হারে হামলা চালিয়ে আসছে টিটিপি। বিশেষ করে খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তান সরকার বলেছে, ভারতের সমর্থনে জঙ্গিরা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের তৎপরতা চালায়, যেখানে তারা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং হামলার পরিকল্পনা করে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছে।
এমআই