মোঃ দ্বীন ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিফলক দীর্ঘদিনের অবহেলায় ধ্বংসের উপক্রমে রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন এবং সেই স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, স্মৃতিফলকটি আগাছা ও আবর্জনায় ঢাকা। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো—স্মৃতিফলকের ঠিক পাশে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বহুদিন ধরে এখানে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৪টায় বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক স্যামুয়েল আহমেদ লেনিনের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্মৃতিফলকটি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, সদস্য, বাউফল উপজেলা বিএনপি; মোঃ এনামুল হক, জিয়াউর ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর; ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এ্যাব) এর সদস্য; সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ছাত্র নেতা আশিক বিল্লাহ্ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
খাল খননে ব্যবহৃত কোদালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন হাজী মোঃ ইদ্রিস বেপারী। তিনি বলেন, “আমার তত্ত্বাবধানে খাল খনন কর্মসূচি চলেছিল। তখন অনেক মানুষ স্বতঃসেবায় অংশ নিয়েছিল। আজ অনেকদিন পরে জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করতে পেরে আনন্দিত।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “প্রেসিডেন্টের সাথে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ ছিল চন্দ্রপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তিনি রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সকলের সাথে হাত মেলান, খাল খনন শেষ করে যাওয়ার সময় আবারও মানুষের সাথে হাত মেলান। তিনি ছিলেন সবার প্রিয়, সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরল মননের মানুষ।”
স্থানীয় এক মুরুব্বী মোঃ শহীদ পেদ্যা বলেন, “আমার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল—শহীদ প্রেসিডেন্টের সেই উদার আচরণ।”
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, “আমাদের ইতিহাস কি এভাবেই অবহেলিত থাকবে? যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন, তাদের স্মৃতি কি এভাবেই উপেক্ষিত হবে?” নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা দাবি করেছেন:
স্মৃতিফলক দ্রুত সংস্কার করা হোক।
আশপাশ পরিষ্কার রাখা হোক।
টয়লেটটি অন্যত্র সরানো হোক।
স্থানটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থানে রূপান্তর করা হোক।
উপজেলা বিএনপি নেতা স্যামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, “ইতিহাসকে অবহেলা করা মানে আমাদের পরিচয় ও মর্যাদা অবমূল্যায়ন করা। এখনই জেগে ওঠার সময়।”
এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদকে মোবাইলে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “ঈদের পরে আমরা বসে পরিকল্পনা করব কীভাবে স্মৃতিফলক ও স্থানটিকে সংরক্ষণ এবং শোভা বৃদ্ধি করা যায়; সেই ব্যাপারে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
পরিশেষে স্যামুয়েল আহমেদ লেনিন, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিকদের অংশগ্রহণে স্মৃতিফলকটি পরিষ্কার ও রঙ করা হয়েছে।
এমআই