আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে, ততদিন কোনো আলোচনায় বসবে না তারা।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পর গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এই বার্তা বিনিময় মূলত প্রথম দফার আলোচনার প্রক্রিয়ারই অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের 'অতিরিক্ত দাবি ও উচ্চাভিলাষের' কারণে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথম দফার সেই বৈঠকের পর থেকে পাকিস্তান নিয়মিতভাবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তার বাহক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইরানের আলোচক দল জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছেন, তা বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের নতুন আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, দু-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক এক দিন আগে, সোমবার সন্ধ্যায় তার বিশেষ দূতেরা ইসলামাবাদে পৌঁছবেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি তারা এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।'
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। প্রথম শান্তি বৈঠকেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ওই দলে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকবেন। তবে এবিসি নিউজ ও এমএস নাউ-কে ট্রাম্প আলাদাভাবে বলেছেন, ভ্যান্স প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না।
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তান অবশ্য বৈঠকের জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও বেশ কিছু গাড়ি নিয়ে রোববার বিকেলে একটি পাক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে আমেরিকার দুটি বিশাল সি-১৭ কার্গো বিমান।
রাজধানী ইসলামাবাদের পৌর কর্তৃপক্ষ শহরে গণপরিবহণ ও ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহের বৈঠক যে সেরেনা হোটেলে হয়েছিল, তার চারপাশে বসেছে কাঁটাতারের বেড়া। সমস্ত অতিথিকে দ্রুত হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। সে সময় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেড লাইন' স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেও ইরান সেই শর্তে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেছিলেন, 'আমরা এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মেনে নেবে।'
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যা অর্জন করতে পারেনি, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তার সবই দাবি করেছে।
ইসলামাবাদে অবস্থারত তাদের এক সংবাদদাতার বরাত দিয়ে সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত ইরান গ্রহণ করেনি।
এমআই