মেহেরিন আক্তার মাহি:
ক্ষমা দুর্বলতা নয় এটি এক অনন্য শক্তি। আজকের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল মানুষ সহজে ক্ষমা চাইতে পারে না। এর মূল কারণ হলো ব্যক্তির ভঙ্গুর আত্মসম্মানবোধ ও অহংকার। যেখানে ভুল স্বীকার করাকে নিজের পরাজয় বা চরম দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।যা মানুষের মানুষের মানবিকতা, উদারতার পরিচয় দেয়। এটি কেবল অন্যের ভুলকে উপেক্ষা করা নয় বরং হৃদয়ের ক্ষোভ,রাগ ,প্রতিহিংসা ত্যাগ করে ।শান্তি ও সহমর্মিতার পথ গ্রহণ করে। পারিবারিক ,সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক । কিন্তু ক্ষমার মানসিকতা থাকলে এসব সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব হয়। অপরপক্ষে ক্ষমাহীন মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং সম্পর্ককে দুর্বল করে তোলে। তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমাশীল হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।অনেকে মনে করেন ক্ষমা চাওয়া মানে নিজেকে ছোট করা বা দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করা এই মানসিকতা থেকে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে চান না কারণ তারা নিজেকে সঠিক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
এই ভ্রান্ত ধারণা থেকেই তারা ভুল করেছে জেনেও ভুল স্বীকার করার মানসিকতা তাদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবে নিজের ভুল স্বীকার করা এবং ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির উত্তম ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায় ।
সামাজিক প্রতিযোগিতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষের অহংবোধকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ এখন নিজের অবস্থান ,মর্যাদা এবং আমিই ঠিক এই ধারণা বজায় রাখতে চায়। এতে করে সামান্য বিষয় থেকে বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়।।
ক্ষমা না করার মানসিকতা মানুষের জীবনকে নরক করে তুলেছে। এতে করে মানসিক যন্ত্রণা, নির্ঘুম রাত ও না বলা চাপা কষ্ট সাথে নিয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত জীবন কাটাতে হচ্ছে। যখন আমরা কারো ওপর রাগ বা ক্ষোভ পুষে রাখি তখন আমরা নিজেরাই মানসিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।কিন্তু যদি সহজেই আমরা ক্ষমা চাইতে পারি তাহলে অতি সহজেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা সহজে ক্ষমা করতে পারে তাদের মধ্যে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।যেমন ক্ষমা করলে দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা কমে যায় এবং মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্ষমা করলে সম্পর্কের উন্নতি হয়।
ক্ষমা করা একটি কঠিন কাজ হতে পারে কিন্তু এটি আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত জরুরী। এটি অন্য ব্যক্তির জন্য নয় বরং নিজের সুস্থতা এবং সুখের জন্য একটি মহৎ উপহার।
লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।