মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরে গরু চুরির অপবাদ সইতে না পেরে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটি আত্মহত্যা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
রোববার (৩ মে) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কোটামনি এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার এবং এলাকায় ধারাবাহিক চুরি রোধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা নায়ের আলী, বোরহান উদ্দিন, ইদ্রিস আলী, জায়েদা বেগমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা জানান, গত ২৬ মার্চ কোটামনি এলাকায় একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে অভিযুক্ত সুজনকে না পেয়ে তার বাবাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ সময় অভিযুক্ত সুজনের মা জোসনা বেগম অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সালিশস্থল থেকে দৌড়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা তার ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন জোসনা বেগমের ছেলে সজিব মিয়া ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলার আসামিদের পরিবারে আতঙ্ক নেমে আসে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্যকালে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নায়ের আলী অভিযোগ করে বলেন, চুরির অপবাদে লজ্জা ও অপমান সইতে না পেরে জোসনা বেগম আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু সেই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে নিরীহ ও নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মামলার ভয়ে অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে দায়েরকৃত হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে কোটামনি এলাকায় ধারাবাহিক চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এদিকে মামলার বাদী সজিব মিয়া বলেন, তারা যে মিথ্যা মামলা বলে অভিযোগটি করছে এটা মিথ্যা। আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে বলেই হত্যা মামলা করেছি।
জামালপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. খায়রুজ্জামান বলেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এমআই